২০২৭ সালে সুপার ব্যালন ডি’অর! পুরস্কার জয়ে সবচেয়ে এগিয়ে কে?
খেলা · 2026-10-27T06:34:22.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ফুটবলবিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সুপার ব্যালন ডি’অর। ২০২৭ সালে এই বিরল সম্মাননা আবারও দেওয়া হতে পারে—এমন খবর প্রকাশের পর সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মেসি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত অর্জন, ক্লাব ফুটবলের সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় তাঁর ক্যারিয়ারকে দিয়েছে বিশেষ পূর্ণতা। ফলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিরল ব্যক্তিগত সম্মাননা সুপার ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই মেসিকে সম্ভাব্য প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সুপার ব্যালন ডি’অর সাধারণ ব্যালন ডি’অরের মতো প্রতিবছর দেওয়া হয় না। ফুটবলের দীর্ঘ সময়ের সেরা খেলোয়াড়কে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৮৯ সালে এই বিশেষ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল পুরস্কারটি প্রদান করে। প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বিজয়ী ছিলেন আলফ্রেদো দি স্তেফানো। আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি পরবর্তী সময়ে স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং ইউরোপীয় ফুটবলে প্রভাব তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছিল। সুপার ব্যালন ডি’অর জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য স্থান অর্জন করেন।
আলফ্রেদো দি স্তেফানো শুধু একজন গোলদাতা ছিলেন না, বরং মাঠের বিভিন্ন অংশে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারতেন। আক্রমণ গড়ে তোলা, গোল করা এবং সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ছিল অসাধারণ। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপিয়ান কাপের প্রথম পাঁচটি আসরেই শিরোপা জয়ের পেছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে তিনি ব্যালন ডি’অরও জেতেন। তাঁর ক্যারিয়ারের সামগ্রিক সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে ১৯৮৯ সালে সুপার ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো ফুটবলার এই পুরস্কার পাননি। তাই সম্ভাব্য দ্বিতীয় বিজয়ী নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য বিজয়ীদের আলোচনায় লিওনেল মেসির এগিয়ে থাকার প্রধান কারণ তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিগত রেকর্ড। বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলতে গিয়ে তিনি একের পর এক শিরোপা জিতেছেন এবং বিশ্ব ফুটবলে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্যারিস সাঁ জার্মেই ও ইন্টার মায়ামির হয়েও খেলেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ব্যক্তিগত পর্যায়ে আটবার ব্যালন ডি’অর জিতে তিনি পুরস্কারটির ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যকবার বিজয়ী হয়েছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, আক্রমণ পরিচালনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে প্রায় দুই দশক ধরে ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে রেখেছে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির অর্জনও তাঁর দাবিকে শক্তিশালী করেছে। ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সেই সাফল্য আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই ধারাবাহিক সাফল্য, ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং দীর্ঘদিনের প্রভাব মেসিকে তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সুপার ব্যালন ডি’অর আবার দেওয়া হলে এই অর্জনগুলো তাঁকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রাখবে।
তবে সুপার ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা হলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নামও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী পর্তুগিজ তারকা ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির ক্লাব ফুটবলে সাফল্য অর্জন করেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর কীর্তি এবং পর্তুগালের হয়ে ইউরো জয় তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন। মেসি ও রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। ফলে সুপার ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন তাঁদের অর্জন, প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে প্রকাশিত আলোচনায় মেসিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে তাঁর রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি’অর ও বিশ্বকাপজয়ের কারণে।
সুপার ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে আলফ্রেদো দি স্তেফানো প্রথম এবং একমাত্র বিজয়ী হিসেবে পরিচিত। এবার এই সম্মাননা আবার দেওয়া হলে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ থাকবে কে হবেন ইতিহাসের দ্বিতীয় বিজয়ী, আর সেই আলোচনায় লিওনেল মেসি রয়েছেন সামনের সারিতে। ১৯৮৯ সালে আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া ও স্পেনের হয়ে খেলা দি স্তেফানো যে বিরল সম্মাননা পেয়েছিলেন, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সম্ভাবনার কারণে। মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সাফল্য তাঁকে এই আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। ২০২৭ সালকে ঘিরে প্রকাশিত খবর ফুটবলবিশ্বে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে, আর সুপার ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে।