আইফোন ডুওর স্ক্রিনে ফাটল ও রেখা, ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেবে অ্যাপল
প্রযুক্তি · 2026-10-27T06:20:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই স্ক্রিনে ফাটল ও অস্বাভাবিক রেখা দেখা দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় এসেছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ব্যবহারকারী ফোনটির ভেতরের ডিসপ্লেতে ত্রুটির ছবি প্রকাশ করার পর বিষয়টি স্বীকার করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ফোন বদলে নিতে AppleCare-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইফোন ডুও বাজারে আসার পরপরই কিছু ব্যবহারকারী স্ক্রিনের মাঝখানে, অর্থাৎ ভাঁজের অংশে ফাটল এবং ডিসপ্লেতে উজ্জ্বল রেখা দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেন। কোনো কোনো ব্যবহারকারীর দাবি, ফোন খোলার সময় অস্বাভাবিক শব্দ শোনার পর স্ক্রিনে ত্রুটি দেখা দেয়।
অ্যাপল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অল্পসংখ্যক আইফোন ডুওর ভেতরের ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। যেসব গ্রাহকের ফোনে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের AppleCare-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বদলি ফোন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা উৎপাদনের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাচে ত্রুটি রয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি অ্যাপল।
বাজারে আসার পরপরই অভিযোগ
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোনটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল ব্যাপক। ফোনটি বাজারে আসার পর বিভিন্ন দেশে ক্রেতারা এটি সংগ্রহ করেন। কিন্তু বিক্রির কয়েক দিনের মধ্যেই ডিসপ্লে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি ও অভিজ্ঞতা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন ডিভাইসটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে ফোনের ভেতরের স্ক্রিনে ভাঁজ বরাবর ফাটল এবং ডিসপ্লের একাংশে উজ্জ্বল রেখা দেখা যায়। কয়েকটি ঘটনায় ফোন ব্যবহারের অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা দেখা দেওয়ার দাবি করেছেন ব্যবহারকারীরা। তবে এখন পর্যন্ত কতটি ফোনে এ সমস্যা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
অ্যাপল বলেছে, সমস্যাটি অল্পসংখ্যক ডিভাইসে দেখা গেছে। ফলে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো পণ্যসিরিজে একই ধরনের ত্রুটি রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বিষয়টি কতটা বিস্তৃত, তা বুঝতে আরও তথ্য ও পরীক্ষা প্রয়োজন।
হিঞ্জের নকশা নিয়ে প্রশ্ন
আইফোন ডুওতে রয়েছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ভাঁজযোগ্য ভেতরের ডিসপ্লে। ফোনটি খোলা ও বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ হিঞ্জ বা কবজা প্রযুক্তি। এই অংশের কাছাকাছি স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেওয়ায় হিঞ্জের নকশা ও ভেতরের যন্ত্রাংশের বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ডিভাইসটি খুলে পরীক্ষা করা প্রযুক্তি মেরামতবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইফিক্সিটের বিশ্লেষণে হিঞ্জের ভেতরের একটি সাপোর্ট বার এবং ডিসপ্লের কাছাকাছি যন্ত্রাংশের অবস্থান সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের সিমুলেশন অনুযায়ী, ভাঁজ করার সময় কোনো অংশ ঠিকমতো সরে না গেলে স্ক্রিনের নির্দিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য ব্যাখ্যা; অ্যাপল এই বিশ্লেষণকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে স্বীকার করেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য কী ব্যবস্থা
অ্যাপল ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের মালিকদের AppleCare-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বদলি ফোনের ব্যবস্থা নিতে বলেছে। কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপল স্টোরে গিয়ে ফোন বদলে পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন। তবে সব জায়গায় বদলি ডিভাইসের মজুত সমান নয় বলে কিছু গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ধরনের ফোল্ডেবল ফোন তৈরিতে ডিসপ্লে ও হিঞ্জের মতো জটিল যন্ত্রাংশের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসার পরও স্ক্রিনের স্থায়িত্ব নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে আইফোন ডুওর ক্ষেত্রে সমস্যাটি কতটা ব্যাপক, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অ্যাপলের দ্রুত বদলি ফোন দেওয়ার ঘোষণা ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতাদের জন্য তাৎক্ষণিক সমাধান হতে পারে। তবে ত্রুটির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতের ডিভাইসে একই সমস্যা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা নজরে রাখছেন প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকেরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, 9to5Mac ও আইফিক্সিটের প্রতিবেদন।