সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি, অবরোধ অব্যাহত
সারাদেশ · 2026-10-27T06:41:00.000000Z · জেলা প্রতিনিধি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠন দুটির দাবি, উজো বাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাদের পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকারি প্রতিনিধি দল সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহ সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তাতে সম্মত হননি। তারা সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। বৈঠকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত ২২ অক্টোবরের ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, অভিযোগ ওঠা সেনা কর্মকর্তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বদলি, গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত।
এ ছাড়া উজো বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাজার থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের প্রত্যাহার এবং আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেক এলাকায় সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের দাবি, গত ৩১ আগস্ট থেকে পর্যটনকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি ও তৎপরতা বেড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ চলমান থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনেকে বলছেন, সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হলেও সমঝোতা না হওয়ায় প্রশাসনের সময় ও অর্থ ব্যয়ের পরও কার্যকর সমাধান আসেনি। শেষ পর্যন্ত এর চাপ সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং পর্যটন কার্যক্রম সচল রাখতে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি। ফলে সাজেকের পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
সাজেকে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন দুটি।