শ্রীমঙ্গলের সময়

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

বিশ্ব · 2026-10-27T06:45:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও সুন্দরী প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী বিয়াত্রিস কিউল। তাঁর অভিযোগ, নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাঁর এই অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি ও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়ে করা তদন্তের অংশ হিসেবে কিউলের বক্তব্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন প্রকাশিত প্রতিবেদনে মোট ১১ নারীর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়।

১৯৯৩ সালের ঘটনা নিয়ে নতুন দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউল কমিটির কর্মীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে আয়োজিত ‘আমেরিকান ড্রিম পেজেন্ট’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। কিউলের দাবি, অনুষ্ঠানের সময় যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

কিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে হোটেলের একটি স্যুইটে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর আরও দাবি, ঘটনার পর তাঁকে নীরব থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

কিউল ২০২৪ সালে প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনার কথা বলেছিলেন। সে সময় তাঁর বক্তব্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শের অভিযোগ ছিল। নতুন প্রতিবেদনে তিনি ধর্ষণের অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠন বা আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আরও নারীর বক্তব্য

জেফ্রি এপস্টেইন ছিলেন দণ্ডিত যৌন অপরাধী। তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের অতীত যোগাযোগ এবং এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে ট্রাম্পের কথিত সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে একাধিক নারীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ এবং কয়েকজন নারীর অভিযোগের মধ্যে তদন্তযোগ্য যোগসূত্র রয়েছে। কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এপস্টেইনের সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত ও নথি প্রকাশে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বিষয়টি তদন্তে স্বাধীন বিশেষ কৌঁসুলি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে প্রতিবেদনটি প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্তমূলক প্রতিবেদন। এতে উত্থাপিত অভিযোগ ও সিদ্ধান্তকে আদালতের রায় বা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, প্রমাণের মূল্যায়ন এবং আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগ অস্বীকার হোয়াইট হাউসের

কিউলের অভিযোগ এবং নতুন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্পের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরোনো অভিযোগ সামনে আনছেন। তাঁদের দাবি, রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক সাফল্য থেকে জনসাধারণের মনোযোগ সরাতেই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পৃক্ততার দাবিও অস্বীকার করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বাইরে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিউলের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি, অতীতের যোগাযোগ এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফল ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, People ও Swissinfo।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত