শ্রীমঙ্গলের সময়

মোবাইল দিয়ে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম জানুন

জাতীয় · 2026-10-27T06:33:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

মোবাইলের ব্রাউজার থেকেই সরকারি e-Verify পোর্টালে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা যায়; আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক নয়। এই গাইডে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে যাচাইয়ের ধাপ, তথ্য না পাওয়া গেলে করণীয়, ভুল সংশোধনের পদ্ধতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখার নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন সনদ একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। শিশুর স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন, বিবাহ নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু জন্ম নিবন্ধনের কাগজ হাতে থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; সরকারি অনলাইন ব্যবস্থায় নিবন্ধনের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত আছে কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকের কাছে পুরোনো জন্ম নিবন্ধনের সনদ রয়েছে। আবার কারও সনদে নামের বানান, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নামের মধ্যে ভুল থাকতে পারে। কেউ নতুন সনদ হাতে পাওয়ার পর সেটি অনলাইনে যাচাই করতে চান। এসব ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন অফিসে যাওয়ার আগে ঘরে বসেই মোবাইল ফোন দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করা যায়।

বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যব্যবস্থার সরকারি যাচাই পোর্টাল ব্যবহার করে এ কাজ করা সম্ভব। এর জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক নয়। মোবাইলের ব্রাউজার থেকেই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।

এই গাইডে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় তথ্য, মোবাইলে যাচাইয়ের ধাপ, তথ্য না পাওয়া গেলে করণীয়, ভুল সংশোধনের পদ্ধতি এবং প্রতারণা এড়িয়ে নিরাপদে সরকারি সেবা ব্যবহারের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সরকারি ডেটাবেইসে নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে সনদের তথ্য মিলছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।

ধরা যাক, আপনার জন্ম নিবন্ধনের কাগজে জন্মতারিখ ১৫ মার্চ ২০০০ লেখা আছে। কিন্তু সরকারি অনলাইন রেকর্ডে অন্য কোনো তারিখ দেখাচ্ছে। এ ধরনের অমিল ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা অন্য কোনো সেবার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই আগে থেকেই তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া ভালো।

জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার দেওয়া নম্বর ও জন্মতারিখের সঙ্গে সরকারি সিস্টেমে কোনো রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে কি না। রেকর্ড পাওয়া গেলে সেখানে প্রদর্শিত নাম, জন্মতারিখ, নিবন্ধন নম্বর এবং অন্যান্য উপলব্ধ তথ্য সনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

তবে শুধু অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেলেই সব তথ্য নির্ভুল—এমন নয়। রেকর্ডে কোনো ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আবার তথ্য না পাওয়া গেলেই সনদটি জাল বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি মোবাইল অ্যাপ প্রয়োজন?

না, জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে আলাদা মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক নয়। সরকারি যাচাই পোর্টালটি মোবাইল ফোনের ব্রাউজার থেকেই ব্যবহার করা যায়।

অনেকেই Google Play Store-এ ‘Birth Certificate Check’, ‘Birth Registration Verify’ বা ‘BDRIS App’ লিখে বিভিন্ন অ্যাপ খোঁজেন। কিন্তু কোনো অ্যাপের নামের সঙ্গে ‘সরকারি’ বা ‘BDRIS’ লেখা থাকলেই সেটি সরকারি অ্যাপ হয়ে যায় না। অ্যাপটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে সেখানে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া উচিত নয়।

জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি। এতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না এবং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোথাও চলে যাওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।

সরকারি যাচাই পোর্টাল:

https://everify.bdris.gov.bd/

লিংকটি ব্রাউজারে লিখে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে দেখে নিন, যাতে দেখতে একই রকম কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ না করেন।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করতে কী কী লাগবে?

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য সাধারণত দুটি প্রধান তথ্য প্রয়োজন হয়।

প্রথমটি হলো ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর। এটি আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদে উল্লেখ থাকে। নম্বরটি ভালোভাবে দেখে লিখুন। কোনো সংখ্যা বাদ পড়লে বা ভুল হলে সরকারি সিস্টেমে সঠিক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয়টি হলো জন্মতারিখ। সনদে যে জন্মতারিখ রয়েছে, সেটি সঠিকভাবে দিতে হবে। সরকারি যাচাই পোর্টালে জন্মতারিখ সাধারণত YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দিতে হয়। অর্থাৎ প্রথমে বছর, এরপর মাস এবং সবশেষে দিন লিখতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কারও জন্মতারিখ ১৫ মার্চ ২০০০ হলে ফরম্যাটটি হবে 2000-03-15। এখানে 2000 হলো বছর, 03 হলো মাস এবং 15 হলো দিন।

কিছু ক্ষেত্রে যাচাই পেজে ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য একটি প্রশ্ন দেখা যেতে পারে। সেটিও সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

শুধু নাম দিয়ে সরকারি অনলাইন যাচাই পোর্টালে সাধারণত জন্ম নিবন্ধন অনুসন্ধান করা যায় না। তাই নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন।

মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম

ধাপ ১: মোবাইলের ব্রাউজার চালু করুন

প্রথমে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা আইফোনে Chrome, Safari অথবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্রাউজার চালু করুন। মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে।

এরপর ব্রাউজারের ঠিকানার ঘরে সরকারি জন্ম নিবন্ধন যাচাই পোর্টালের ঠিকানা লিখুন:

https://everify.bdris.gov.bd/

ঠিকানাটি লিখে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। শুধু গুগলে পাওয়া কোনো বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি সরকারি ঠিকানা ব্যবহার করুন।

ধাপ ২: জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের ফরম খুঁজুন

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাইয়ের ফরম দেখতে পাবেন। সরকারি পোর্টালের নকশা বা প্রদর্শনের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সেখানে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

সাধারণত জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য ক্যাপচা বা সংশ্লিষ্ট ঘর থাকতে পারে।

ধাপ ৩: ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন

আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ থেকে নম্বরটি দেখে নির্ধারিত ঘরে লিখুন। নম্বরটি ১৭ সংখ্যার কি না, তা আবার যাচাই করুন।

সনদে লেখা কোনো সংখ্যা অস্পষ্ট হলে অনুমান করে লিখবেন না। প্রয়োজনে সনদের পরিষ্কার কপি দেখে নম্বর নিশ্চিত করুন।

যদি আপনার পুরোনো জন্ম নিবন্ধনে ১৭ সংখ্যার কম নম্বর থাকে, তাহলে নিজের সিদ্ধান্তে নতুন নম্বর তৈরি করবেন না। সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই করার পদ্ধতি জেনে নিন।

ধাপ ৪: জন্মতারিখ সঠিক ফরম্যাটে দিন

জন্ম নিবন্ধন নম্বর লেখার পর জন্মতারিখের ঘরে সনদে উল্লেখিত তারিখ লিখুন।

সরকারি যাচাই পোর্টালে জন্মতারিখের ফরম্যাট YYYY-MM-DD। অর্থাৎ বছর-মাস-দিন ক্রমে তারিখ দিতে হবে।

উদাহরণ: জন্মতারিখ ৭ আগস্ট ১৯৯৮ হলে লিখবেন 1998-08-07।

এখানে মাস ও দিনের সংখ্যা এক অঙ্কের হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আগে শূন্য ব্যবহার করুন। যেমন, আগস্ট মাসের জন্য 08 এবং সাত তারিখের জন্য 07 লিখতে হবে।

ধাপ ৫: ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করুন

ফরমে ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটির উত্তর দিন। অনেক সময় কয়েকটি সংখ্যা যোগ বা বিয়োগ করতে বলা হতে পারে, আবার কখনও ছবি বা অক্ষরভিত্তিক ক্যাপচা থাকতে পারে।

ক্যাপচা ঠিকভাবে না দিলে সঠিক জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়েও অনুসন্ধান সম্পন্ন নাও হতে পারে। তাই উত্তর দেওয়ার আগে ভালোভাবে দেখে নিন।

ধাপ ৬: Search বাটনে চাপ দিন

সব তথ্য পূরণ করার পর Search বা সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বাটনে চাপ দিন। এরপর সরকারি সিস্টেমে আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রেকর্ড অনুসন্ধান করা হবে।

তথ্য সঠিকভাবে মিলে গেলে ফলাফলের পাতায় নিবন্ধনের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য দেখতে পাবেন। সেখানে প্রদর্শিত জন্মতারিখ, নিবন্ধন নম্বর, নাম এবং অন্যান্য উপলব্ধ তথ্য আপনার সনদের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

ধাপ ৭: প্রদর্শিত তথ্য সনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন

ফলাফল পাওয়ার পর শুধু রেকর্ড দেখা যাচ্ছে কি না, তা দেখেই থেমে যাবেন না। সনদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো মিলিয়ে নিন।

বিশেষ করে নিজের নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান, জন্মতারিখ, জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং বাবা-মায়ের নামের তথ্য যাচাই করুন। পোর্টালে সব তথ্য প্রদর্শিত না হলে সনদে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।

কোনো তথ্যের অমিল পাওয়া গেলে সেটি লিখে রাখুন। পরে সংশোধনের আবেদন করার সময় এই তথ্য কাজে লাগবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া না গেলে কী করবেন?

জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ সঠিকভাবে দেওয়ার পরও যদি ‘No Record Found’ বা এ ধরনের বার্তা দেখা যায়, তাহলে আতঙ্কিত হবেন না। এর একাধিক কারণ থাকতে পারে।

প্রথমত, নিবন্ধন নম্বরের কোনো সংখ্যা ভুল হতে পারে। দ্বিতীয়ত, জন্মতারিখ ভুল ফরম্যাটে দেওয়া হতে পারে। তৃতীয়ত, পুরোনো রেকর্ড বা ডেটাবেইসের তথ্যের সঙ্গে আপনার দেওয়া তথ্যের অমিল থাকতে পারে। কখনও সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও অনুসন্ধান ব্যর্থ হতে পারে।

এ অবস্থায় প্রথমে নম্বরটি সনদ দেখে আবার লিখুন। এরপর জন্মতারিখ YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দেওয়া হয়েছে কি না যাচাই করুন। সব তথ্য সঠিক থাকার পরও ফলাফল না এলে কিছু সময় পর আবার চেষ্টা করুন।

এরপরও তথ্য না পাওয়া গেলে জন্ম নিবন্ধন সনদে উল্লেখিত নিবন্ধন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় রেকর্ড যাচাই করে পরবর্তী করণীয় জানাতে পারে।

অনলাইনে রেকর্ড না পাওয়া মানেই আপনার জন্ম নিবন্ধন জাল বা বাতিল—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। নিবন্ধন কার্যালয় থেকে যাচাই না করে নতুন করে আরেকটি জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করাও উচিত নয়। একই ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন তৈরি হলে পরবর্তীতে জটিলতা হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ভুল থাকলে কীভাবে সংশোধন করবেন?

অনলাইনে যাচাই করার পর যদি নিজের নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা অন্য কোনো তথ্য ভুল দেখতে পান, তাহলে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্যব্যবস্থার ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পোর্টালে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের অপশন নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন।

সরকারি পোর্টাল:

https://bdris.gov.bd/

সংশোধনের আবেদনে কোন তথ্য পরিবর্তন করতে চান, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হয়। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রও লাগতে পারে। যেমন, জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র এবং নামের বানান সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নথি চাওয়া হতে পারে।

আবেদন অনলাইনে করা গেলেও সেটি যাচাই, অনুমোদন বা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই শুধু অনলাইনে ফরম পূরণ করলেই সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে ধরে নেবেন না। আবেদনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই ও সনদ ডাউনলোড কি একই বিষয়?

না, দুটি বিষয় আলাদা। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের মাধ্যমে সরকারি ডেটাবেইসে নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা দেখা যায়। অন্যদিকে সনদের কপি সংগ্রহ, পুনর্মুদ্রণ বা সংশোধনের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া থাকতে পারে।

যাচাইয়ের ফলাফলের পাতা সব ক্ষেত্রে মূল জন্ম নিবন্ধন সনদের বিকল্প নয়। কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মূল সনদ, অনুমোদিত কপি অথবা নির্দিষ্ট ফরম্যাটের নথি চাইলে সেই প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

যাচাইয়ের ফলাফল নিজের রেকর্ডের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে স্ক্রিনশট নেওয়া বা প্রিন্ট করা যেতে পারে। তবে স্ক্রিনশট বা সাধারণ প্রিন্টকে মূল সনদের সমতুল্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সময় যেসব সতর্কতা মানবেন

জন্ম নিবন্ধনের নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যক্তিগত তথ্য। তাই যাচাইয়ের সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রথমত, সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করুন। শুধু দেখতে একই রকম নাম বা লোগো থাকলেই কোনো ওয়েবসাইটকে সরকারি মনে করবেন না।

দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য দেবেন না। অ্যাপের নির্মাতা ও সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে সেটি এড়িয়ে চলুন।

তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তি বা পেজকে জন্ম নিবন্ধনের পূর্ণ নম্বর, জন্মতারিখ ও সনদের ছবি পাঠানো থেকে বিরত থাকুন। কেউ টাকা নিয়ে দ্রুত যাচাই বা সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক থাকুন।

চতুর্থত, অনলাইনে তথ্য না পেলে নিজে থেকে নতুন নিবন্ধন করবেন না। আগে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে পুরোনো রেকর্ডের অবস্থা যাচাই করুন।

পঞ্চমত, সংশোধনের জন্য কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে হলে সঠিক প্রমাণপত্র ব্যবহার করুন। ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে আবেদন বাতিল হতে পারে বা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১. জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য কি মোবাইল অ্যাপ লাগবে?

না। মোবাইলের ব্রাউজার দিয়ে সরকারি e-Verify পোর্টালে প্রবেশ করেই জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়। আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক নয়।

২. জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কী কী তথ্য লাগে?

সাধারণত ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্মতারিখ লাগে। সরকারি পোর্টালে ক্যাপচা বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের ধাপ থাকলে সেটিও সম্পন্ন করতে হবে।

৩. জন্মতারিখ কীভাবে লিখতে হবে?

সরকারি যাচাই পোর্টালে জন্মতারিখ YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দিতে হয়। যেমন, ১৫ মার্চ ২০০০ হলে লিখতে হবে 2000-03-15।

৪. অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি টাকা লাগে?

সরকারি যাচাই পোর্টালে সাধারণ অনলাইন যাচাই করার জন্য কোনো ফি উল্লেখ নেই। তবে সংশোধন, পুনর্মুদ্রণ বা অন্য কোনো সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম ও ফি আলাদা হতে পারে।

৫. শুধু নাম দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?

সরকারি অনলাইন যাচাই পোর্টালে সাধারণত জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিতে হয়। শুধু নাম দিয়ে অনুসন্ধানের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

৬. জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না কেন?

নম্বর বা জন্মতারিখ ভুল হওয়া, তথ্যের অমিল, পুরোনো রেকর্ড বা সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ফলাফল না-ও আসতে পারে। তথ্য সঠিকভাবে দিয়েও ফলাফল না পেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

৭. অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ভুল দেখালে কী করব?

প্রথমে সনদের সঙ্গে অনলাইন রেকর্ডের অমিল চিহ্নিত করুন। এরপর সরকারি BDRIS পোর্টালে সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন অথবা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ যোগাযোগ করুন।

৮. জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের ফলাফল কি মূল সনদের বিকল্প?

সব ক্ষেত্রে নয়। যাচাইয়ের ফলাফল রেকর্ডের তথ্য দেখতে সাহায্য করে। কোনো প্রতিষ্ঠানে মূল সনদ বা নির্দিষ্ট ধরনের অনুমোদিত কপি প্রয়োজন হলে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

৯. আইফোন দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?

হ্যাঁ। আইফোনের Safari বা অন্য কোনো ব্রাউজার দিয়ে সরকারি যাচাই পোর্টালে প্রবেশ করে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়।

১০. জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার পর কী করা উচিত?

প্রদর্শিত তথ্য সনদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। কোনো ভুল না থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ফলাফলের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। ভুল থাকলে সংশোধনের উদ্যোগ নিন এবং তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।

উপসংহার

ঘরে বসে মোবাইল ফোন দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা এখন সহজ। এর জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই; সরকারি e-Verify পোর্টালে প্রবেশ করে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।

তবে যাচাইয়ের ফলাফল না পাওয়া গেলে বা কোনো তথ্য ভুল দেখালে তাড়াহুড়া করে সনদকে জাল বা বাতিল মনে করবেন না। প্রথমে নম্বর ও জন্মতারিখ যাচাই করুন, এরপর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয়ের সহায়তা নিন।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সঠিক রাখা ভবিষ্যতের বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে রাখুন, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সম্পন্ন করুন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত