শ্রীমঙ্গলের সময়

সরিষাবাড়ীতে তিন কমিউনিটি ক্লিনিকে নেই সিএইচসিপি, ব্যাহত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা

স্বাস্থ্য · 2026-11-05T11:33:33.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ৪৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে তিনটিতে দীর্ঘদিন ধরে নেই কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ীতে মোট ৪৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। 

এর মধ্যে পোগলদিঘা ইউনিয়নের বগারপাড়, তারাকান্দি ও মানিকপটল কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে কোনো সিএইচসিপি কর্মরত নেই। জানা যায়, বগারপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মল্লিকা আক্তার গত ১৫ আগস্ট ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বড়ইকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকে বদলি হন। এরপর থেকে ক্লিনিকটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য ক্লিনিকটি খোলা রাখা হয়। অন্যদিকে, তারাকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি বিউটি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

 তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষপাতিত্বের কারণে গত আগস্ট মাস থেকে তাকে অনুপস্থিত হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া মানিকপটল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শাহানাজ আক্তার গত ৬ জুলাই মৃত্যুবরণ করায় পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। কিন্তু এসব ক্লিনিকে বিকল্প জনবল নিয়োগ বা পদায়নের কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার, সিমা ও লাকি আক্তার জানান, আগে এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পেতেন।

 কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় অনেক সময় ক্লিনিক বন্ধ থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দূরে যেতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত এসব ক্লিনিকে জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী এমদাদুল হক বলেন, সপ্তাহে দুই দিন কয়েক ঘণ্টার জন্য ক্লিনিক খোলা রাখা হয়। ওই সময় রোগীদের সেবা দেওয়া হয়।

 বাকি সময়ে মাঠপর্যায়ে প্রচার ও ইপিআই কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকি। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, উপজেলার ৪৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৪২ জন সিএইচসিপি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত