শ্রীমঙ্গলের সময়

ডিফেন্ডার নাকি গোলমেশিন, হাকিমির অবিশ্বাস্য কীর্তিতে পিএসজির বড় জয়

খেলা · 2026-10-31T01:53:59.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

একজন রাইটব্যাক হয়েও এক ম্যাচে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন আশরাফ হাকিমি। তাঁর নৈপুণ্যে লে আভরকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। এটি মরক্কোর এই তারকার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক।

ফুটবল মাঠে সাধারণত গোল করার দায়িত্ব থাকে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের। কিন্তু সেই ধারণাকেই যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানালেন মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে লে আভরের বিপক্ষে এমন এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন এই রাইটব্যাক, যা দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় থাকবে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফরাসি লিগ ওয়ানের নবম রাউন্ডের ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে তিনবার বল পাঠানোর পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ দলের পাঁচটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন মরক্কোর এই অধিনায়ক। তাঁর এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে লে আভরকে তাদেরই মাঠে ৫-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য পরিস্থিতি পিএসজির অনুকূলে ছিল না। নিজেদের মাঠে খেলা লে আভর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ মিনিটে রায়ান ফোফানার সহায়তায় গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন জশ মাজা। পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার জন্য দ্রুত আক্রমণে মনোযোগ দেয় পিএসজি। আর সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হাকিমি। ২৬ মিনিটে তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকে গোল করে সমতা ফেরান মিকা গডটস। গোলটির দুই মিনিট পরই নিজে স্কোরশিটে নাম লেখান মরক্কোর ডিফেন্ডার। সেনে মায়ুলুর বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা পিএসজি বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে হাকিমির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি জায়গা থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে কার্যত অসহায় করে দেন এই রাইটব্যাক। এর কিছুক্ষণ পর লে আভর ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও পিএসজির রক্ষণ ও গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভকে অতিক্রম করতে পারেনি। ৬১ মিনিটে জশ মাজা হেড থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও তাঁর প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সেই সুযোগের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় প্যারিসের দলটি।

৬২ মিনিটে পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন সেনে মায়ুলু। এ গোলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হাকিমির। তাঁর বাড়ানো বল কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মায়ুলু। ফলে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো অ্যাসিস্টের খাতায় নাম ওঠে হাকিমির। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ৬৯ মিনিটে মিকা গডটসের বাড়ানো বল থেকে নিজের তৃতীয় গোলটি করে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। এর মধ্য দিয়ে এক ম্যাচে তিনটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্টের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন তিনি। একজন ডিফেন্ডার হিসেবে এমন পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। তাঁর এই পারফরম্যান্সেই পিএসজির ৫-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয়।

ম্যাচের পরিসংখ্যানও হাকিমি ও পিএসজির আধিপত্যের চিত্র তুলে ধরে। পুরো ম্যাচে বলের দখলে ৭১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ছিল প্যারিসের ক্লাবটির, বিপরীতে লে আভরের দখলে ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ। পিএসজি মোট ১৫টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে স্বাগতিকদের ১৪টি শটের মধ্যে পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। পাসের ক্ষেত্রেও বড় ব্যবধান তৈরি করে পিএসজি। দলটি ৭৭৭টি পাসের মধ্যে ৭১১টি সফলভাবে সম্পন্ন করে, যেখানে লে আভরের সফল পাস ছিল ২৪৩টি। ব্যক্তিগতভাবে হাকিমি মাত্র ৭১ মিনিট মাঠে থেকে ৬৩টি পাসের মধ্যে ৫৭টি সঠিকভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দেন। তাঁর পাসের সাফল্যের হার ছিল ৯০ শতাংশ। পাশাপাশি পাঁচটি শট লক্ষ্যে রেখে ম্যাচে নিজের আক্রমণাত্মক সামর্থ্যেরও প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

এই ম্যাচে হাকিমির পারফরম্যান্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দলের প্রতিটি গোলের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা। কখনো নিজে গোল করেছেন, কখনো সতীর্থকে গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। ফটমবের হিসাবে তাঁর ম্যাচ রেটিং ছিল ৯.৮৪, যা পুরো ম্যাচে তাঁর অসাধারণ প্রভাবের প্রতিফলন। পিএসজির হয়ে এটি ছিল তাঁর প্রথম হ্যাটট্রিক এবং ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেরও প্রথম তিন গোলের ম্যাচ। একজন রাইটব্যাক হয়েও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মতো গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। এই পারফরম্যান্স তাঁকে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে পিএসজির আক্রমণভাগে তাঁর গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।

এই জয়ের ফলে ফরাসি লিগ ওয়ানে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে পিএসজি। অন্যদিকে লে আভরের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল হতাশার। ঘরের মাঠে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে হাকিমির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। আধুনিক ফুটবলে একজন ডিফেন্ডারের কাছ থেকে শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর প্রত্যাশা করা হয় না; আক্রমণ গড়ে তোলা এবং গোলেও অবদান রাখার দায়িত্ব থাকে। লে আভরের বিপক্ষে হাকিমি সেই দায়িত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ তৈরি করেছেন। তিন গোল ও দুই অ্যাসিস্টের এই কীর্তি তাঁর ক্যারিয়ারের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং পিএসজির সমর্থকদের কাছেও ম্যাচটি বিশেষভাবে মনে রাখার মতো হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত