ভাঙন হুমকিতে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক
সারাদেশ · 2026-11-04T13:52:46.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ এখন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভাঙনের কবলে পড়ে এই মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সমীক্ষা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
যুগ যুগ ধরে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ। এই নদের ডান তীর ভাঙন ও গতি প্রকৃতি পরিবর্তনসহ নানা কারণে ধীরে ধীরে মহাসড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে জামালপুর পৌরসভার হরিপুর এবং সদর উপজেলার শরিফপুর ও নান্দিনা এলাকার কিছু অংশ।
প্রতি বছর নদের পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলে ভাঙন দেখা দেয়। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে নদের গর্ভে বিলীন হতে পারে মহাসড়কের কয়েকটি অংশ। এতে জামালপুর ও ময়মনসিংহের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি পয়েন্টে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হরিপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন- “আমরা যখন একটু ছোট আছিলাম, তখন দেখছি ব্রহ্মপুত্র নদ কমপক্ষে এক কিলো এখান থেকে দূরে আছিল। আর এহন বর্তমানে এই যে মহাসড়কের কাছে আইসা পড়ছে নদী।”
একই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান- “প্রতিবছর যেভাবে ভাঙতাছে, এইভাবে ভাঙলে আমাদের ময়মনসিংহ মহাসড়কের একেবারে কাছে আইসা পড়বে, মহাসড়ক ধরবে।”
নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খালি শরিফপুর-নান্দিনা না, যে জায়গায় নদী চাইপা সড়কের সঙ্গে আসছে, সেই জায়গায় ক্ষতি হইবো, রোডটারে ক্ষতি করবো, রোডটা ভাইঙ্গা-চিইড়া যাবোগা। এইজন্যে আমরা আবেদন করি, আপনারা এইডা একটু লক্ষ্য করেন। কাজ করতে হবে।”
একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন- “এটা জামালপুর হইতে ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ হইতে ভালুকা, ঢাকা পর্যন্ত মেইন রোড, হাইওয়ে রোড। ধ্বংস হইতে বেশি টাইম রাগবো না। ধ্বংস হবারই আছে, আর কিচ্ছু নাই। ভাঙতে ভাঙতে নদী চাপাইয়া দিছে, একদম ধ্বংস হয়া যাবো।”
জামালপুর থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। আর নদীপথে এই দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার।
এসব বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন- “হরিপুর অংশে ১ হাজার ৩০০ মিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ইতোমধ্যে একটি ফিজিবিলিটি সম্পন্ন হয়েছে। এই ফিজিবিলিটি প্রস্তাবনা মোতাবেক আমরা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ১ হাজার ৩০০ মিটার অংশে নদীতীর সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”
মহাসড়কটি রক্ষা করতে বাকি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।