আগামী বছর থেকেই স্কুলে নতুন সুযোগ, জাপানিসহ যেসব ভাষা শেখার পরিকল্পনা
শিক্ষা · 2026-10-28T16:01:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আগামী বছর থেকে স্কুলে জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি ও আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে কার্যক্রম শুরুর শ্রেণি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঠদানের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আগামী বছর থেকে দেশের স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ পেতে পারে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তারেক রহমান জানান, জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি এবং আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে এসব ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, বিদেশি ভাষায় দক্ষতার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। তাঁদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
একই সভায় দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন।
তবে স্কুলে বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম কোন শ্রেণি থেকে শুরু হবে, কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে এবং কীভাবে পাঠদান করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। আগামী বছর থেকে কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি আপাতত সরকারের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা হিসেবেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।