শ্রীমঙ্গলের সময়

বিশ্ববিদ্যালয় বেকার তৈরির কারখানা হলে রাখার অর্থ কী: ইবি উপাচার্য

শিক্ষা · 2026-10-28T18:23:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম সংস্কার ও কর্মমুখী শিক্ষা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বলেছেন, বেকারত্ব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০৩০ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় যদি বেকার তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করে, তাহলে সেই বিশ্ববিদ্যালয় রাখার অর্থ কী—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম সংস্কার এবং কর্মমুখী শিক্ষা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের সভাপতিরা অংশ নেন।

উপাচার্য বলেন, ২০২৬ সালে বেকারত্বের হার ২০ শতাংশ হলে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০৩০ সালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। তা করতে ব্যর্থ হলে শিক্ষা খাতে সরকারের, রাষ্ট্রের ও জনগণের ব্যয় যথাযথভাবে কাজে লাগবে না।

শিক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মাসের বেতন বাবদ প্রায় ১৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক মাসে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলে বছরে কত টাকা ব্যয় হয়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগছে কি না, সে বিষয়েও ভাবতে হবে।

প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্য বলেন, শুধু তাত্ত্বিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; ব্যবহারিক শিক্ষার ওপরও জোর দিতে হবে। বিশ্বপরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রয়োজন থাকলেও বর্তমান সময়ে ব্যবহারিক শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিকুলাম ও সিলেবাস যুগোপযোগী করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় সভাপতিদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজিমউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত