শ্রীমঙ্গলের সময়

জিপিএ-৫ পাওয়া বন্ধুর খাতা গোপনে পুনর্নিরীক্ষণ, ফল এলো ফেল

শিক্ষা · 2026-10-28T15:09:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বন্ধুর এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ থেকে তার অজান্তে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিল এক শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণে জিপিএ-৫ পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর ফল ফেল আসে। ঘটনা তদন্তে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বন্ধুর এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ ছিল এক শিক্ষার্থীর। তার ধারণা ছিল, বন্ধু জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। সেই সন্দেহ থেকেই বন্ধুর অজান্তে তার পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে সে। পরে পুনর্নিরীক্ষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীটি আসলে ফেল করেছে। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘটনা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা প্রকাশ করেননি তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই শিক্ষার্থীর এক বন্ধু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। কিন্তু তার পরিচিত ওই শিক্ষার্থীর ধারণা ছিল, বন্ধু এত ভালো ফল করার যোগ্য নয়। তাই বন্ধুর অজান্তে তার পরিচয়ে পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে সে।

মন্ত্রী জানান, পুনর্নিরীক্ষণের পর দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীটি আসলে ফেল করেছে। খাতা মূল্যায়নে নম্বরের বড় ধরনের অসংগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একটি খাতায় শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

এবারের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণের ফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এহছানুল হক মিলন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ লাখ শিক্ষার্থী পাস করলেও পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৫ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে জানান তিনি।

খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, কোনো কোনো পরীক্ষক নিজেরা খাতা মূল্যায়ন না করে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের কারণে ফলাফলে এমন পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাউবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নেন। পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য নয়জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত