ঈশ্বরগঞ্জে জমির বিরোধে দুই পক্ষ মুখোমুখি
সারাদেশ · 2026-11-04T13:51:35.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণের পর বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের চট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, চট্টি মৌজায় প্রদীপ কুমার সরকারের কেনা বসতবাড়ি, পুকুর ও বাগানবাড়ির একটি অংশের সীমানা নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করা হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ প্রবীর কুমার সরকার (প্রবল), তাঁর ছেলে চয়ন সরকার এবং তাঁদের সঙ্গে আসা কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, উভয় পক্ষের নিয়োগ করা আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপ শেষে নির্ধারিত স্থানে বাঁশের খুঁটি পুঁতে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ গ্রামের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিমাপ শেষ হওয়ার পর প্রদীপ কুমার সরকারের দুই ভাই সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর প্রবীর কুমার সরকার ও তাঁর স্ত্রী সীমানায় পুঁতে রাখা বাঁশের খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রদীপের ছোট ভাই লিটন কুমার সরকার তাঁদের বাধা দিলেও খুঁটিগুলো তুলে ফেলা হয় বলে পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও দাবি, এর আগে প্রবীর কুমার সরকার বিরোধপূর্ণ বসতবাড়ি ও বাগানবাড়ির অংশের বিনিময়ে তাঁদের অন্য একটি ভালো আবাদি জমি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সেই সমঝোতার অবস্থান থেকে সরে আসেন। এ ছাড়া জমি নিয়ে আগে একটি মামলা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালত খারিজ করে দিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জমি পরিমাপ ও সীমানার খুঁটি উপড়ে ফেলার ঘটনার স্থিরচিত্রসহ বিভিন্ন প্রমাণ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা সামাজিকভাবে বিব্রত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
প্রদীপ কুমার সরকারের ছোট ভাই লিটন কুমার সরকার অভিযোগ করে বলেন, প্রবীর চন্দ্র সরকারের ছেলে পলাশ চন্দ্র সরকার পুলিশে কর্মরত। তাঁর নির্দেশনায় প্রবীর চন্দ্র সরকার ও তাঁর স্ত্রী মঞ্জু রাণী সীমানার খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেছেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন লিটন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রবীর চন্দ্র সরকার বলেন, জমিটি তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি। সে কারণেই তিনি খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলেছেন। জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি এজমালি সম্পত্তি ছিল। তাঁর বড় ভাই ওই জমি ভাতিজি ও ভাতিজির স্বামী প্রদীপ কুমারের কাছে বিক্রি করে দেন। জমিটি বসতবাড়ির অংশ হওয়ায় তা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আপস-আলোচনা হয়েছিল। তবে কোনো জমি পরিমাপ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পরে প্রতিবেদকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন প্রবীর চন্দ্র সরকার।
জমির মালিকানা, সীমানা নির্ধারণ এবং খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা হবে।