কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
বিশ্ব · 2026-11-03T05:19:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে সীমিত আকারের সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইরানের কেশম দ্বীপে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, দ্বীপটিতে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। দ্য গার্ডিয়ানও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করেছিল। এর জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি।
ওয়াশিংটন বলছে, এ হামলা ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান আবার শুরুর ইঙ্গিত নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে এমন হামলা চালানো হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বড় সংঘাতের বার্তা এড়াতে এসব অভিযান প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
হামলার খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত অবসানে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা আশাবাদী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘না’ বলেন।
এদিকে, ইরান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
তবে সোমবার কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ও যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাবনা—দুই বিষয়ই নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান