জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন, বয়স হয়েছিল ৯০ বছর
বিশ্ব · 2026-10-26T16:12:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। ৯০ বছর বয়সে গত ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুকুদার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও জাপানের কূটনীতিতে অবদানের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জন্ম নেওয়া ফুকুদা জাপানের রাজনীতিতে একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে ফুকুদা প্রায় ১৭ বছর একটি তেল কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে বাবার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।
১৯৯০ সালে প্রথমবার জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হন ফুকুদা। এরপর ২০১২ সালে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পদত্যাগ করার পর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইয়াসুও ফুকুদা। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৭১ বছর। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও ৭১ বছর বয়সে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। বাবা ও ছেলে—দুজনেরই জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল নজির।
তবে ফুকুদার প্রধানমন্ত্রিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। সংসদে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইন প্রণয়নে অচলাবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন তিনি।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দেন ফুকুদা। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে তাঁর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য ছিল।
তাঁর শাসনামলে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও জাপান সফর করেন। ২০০৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ ও কৌশলগত সহযোগিতাভিত্তিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূর্ব চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলে জ্বালানি সম্পদ উন্নয়ন নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
২০০৮ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত জি-৮ শীর্ষ সম্মেলনেও সভাপতিত্ব করেন ফুকুদা। ওই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীত্ব ছাড়ার পরও জাপান ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে সংসদীয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন ফুকুদা। পরবর্তী সময়েও দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন তিনি।
জাপানের রাজনীতিতে রেখে গেলেন উত্তরাধিকার
ইয়াসুও ফুকুদার রাজনৈতিক জীবন জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও এশীয় কূটনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর রাজনৈতিক জীবন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ এবং জাপানের ইতিহাসে বাবা-ছেলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজিরের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স