বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, ৫০ কারখানা ছুটি ঘোষণা
জাতীয় · 2026-11-01T10:54:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ৫০টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুরের দিকে নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং অন্যায্যভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদও জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টারের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের তিনটি প্রধান দাবির একটি হলো ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া রোববার দুপুর ২টার দিকে জানান, সকাল থেকেই কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।