শ্রীমঙ্গলের সময়

সারের অপচয় কমানোর প্রযুক্তি, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক

শিক্ষা · 2026-10-26T11:18:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

যবিপ্রবি অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। ২০২১ সালে আবেদন করা এই প্রযুক্তি সারের অপচয় ও কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন উদ্ভাবনটির বাণিজ্যিকীকরণ ও কৃষকের কাছে সহজলভ্য করাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষক।

সারের অপচয় কমানো এবং কৃষি উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস গত রোববার এ অনুমোদন দেয়।

ন্যানোটেকনোলজি গবেষক ড. জাভেদ জানান, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে পাঁচ বছরের বেশি সময়েও আবেদনটির অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

পেটেন্ট অনুমোদন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ড. জাভেদ বলেন, ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে সারের ব্যবহার-দক্ষতা বাড়বে, অপচয় কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তা কমাতেও প্রযুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, এ প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনমূলক কাজে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ড. জাভেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা চলছে।

উদ্ভাবনটির পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ড. জাভেদ জানান, প্রযুক্তিটির কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এটি পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি ও শিল্প খাতে এর সম্ভাবনা কাজে লাগানোই এখন তাঁর লক্ষ্য।

ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন উদ্ভাবনটির স্বত্ব স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে কৃষিতে এর কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয়, ফলনের ওপর প্রভাব এবং পরিবেশগত সুবিধা কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক প্রয়োগ ও পরীক্ষার ফলের ওপর।

তথ্যসূত্র: প্রদত্ত সংবাদতথ্য; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের বক্তব্য।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত