নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর, বাধার খবর সেনাপ্রধানের
বিশ্ব · 2026-10-26T09:53:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ বাস্তবায়নের আগে বিস্তারিত আলোচনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাক্ষরযুক্ত আইনি অনুমোদন চেয়েছেন সেনাপ্রধান জামির।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছিলেন জামির। তবে প্রস্তাবিত অভিযানের ধরন, লক্ষ্যবস্তু কিংবা বাস্তবায়নের সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ভুল হিসাবের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সামরিক নেতৃত্বের কিছু সদস্য আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতারা।
মতবিরোধের খবর অস্বীকার নেতানিয়াহুর
রোববার রাতে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের খবর অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে ইরানের সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর দেওয়া নির্দেশের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করতে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু করেছে বলেও দাবি করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এসব বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ ওই সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি।
সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের খবরকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা শুরু করার কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন এবং ইসরায়েল সরকারের প্রকাশ্য অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ইরান ইস্যু ঘিরে নির্বাচনি বিতর্ক
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনি প্রচারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির নিরাপত্তা হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু।
রোববার তেল আবিবের ওপর পারমাণবিক বিস্ফোরণের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কা তুলে ধরে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট ও ইয়াইর গোলান এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে জনগণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।
বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এমন অবস্থান তুলে ধরে আসছে তাঁর সরকার।
ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানে হামলা নিয়ে আলোচনার খবর
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর আলোচনা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের আপত্তি ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ইরানে নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রস্তাবিত অভিযানের প্রকৃতি, লক্ষ্যবস্তু এবং বাস্তবায়নের সময়ও অজানা রয়ে গেছে।
ইসরায়েলের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে সামরিক অভিযানের নির্দেশ নিয়ে মতবিরোধের খবর, অন্যদিকে নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তা অস্বীকার—দুই ধরনের বক্তব্যই পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার ইরানে নতুন হামলা চালানোর কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি