হঠাৎ বন্ধ মাইগভ ডট বিডি, ৪৪০ সরকারি সেবা কবে চালু হবে?
জাতীয় · 2026-10-26T16:25:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
মাইগভ ডট বিডি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৪০টি অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধান ও ওয়েবসাইটের সংস্করণ হালনাগাদের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যে ওয়েবসাইটটি চালু হতে পারে।
হঠাৎ বন্ধ মাইগভ, একসঙ্গে অচল ৪৪০ সরকারি সেবা! কবে চালু হবে ওয়েবসাইট?দেশের নাগরিকদের জন্য অনলাইনে সরকারি সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম মাইগভ ডট বিডি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৪০টি সেবা যুক্ত রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে। ফলে ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকায় অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে শনাক্ত হওয়া নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধান এবং ওয়েবসাইটের সফটওয়্যার সংস্করণ হালনাগাদ করার জন্য মাইগভ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত অ্যাসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হালনাগাদ করার পর অনলাইন সেবাগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ কারণে কয়েকটি ধাপে কাজ চলছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, মাইগভের অধীনে একাধিক ডোমেইন রয়েছে। সেগুলো একসঙ্গে হালনাগাদ করতে হচ্ছে। কাজ শেষ করে সেবাগুলো পরীক্ষা করার পর ওয়েবসাইটটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের মধ্যে ওয়েবসাইটটি চালু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য সময়সীমা; আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালুর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
মাইগভ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকেরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা অনলাইনে নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশগামী শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন সরকারি নথি সত্যায়নের ই-অ্যাপোস্টিল সেবা। এ ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরাসরি গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমে আসে। ফলে ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকলে নথি সত্যায়নসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আবেদন বা সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে সমস্যা হতে পারে।
সরকারি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইগভ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন দপ্তরের সেবা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকায় নাগরিকদের আলাদা আলাদা দপ্তরের ওয়েবসাইট খুঁজে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন কমে। কিন্তু এমন একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে একাধিক সেবার অনলাইন কার্যক্রম একই সময়ে প্রভাবিত হতে পারে।
সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বহু ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা পরিচালনায় পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশ বা ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারেন। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে সফটওয়্যার হালনাগাদ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশেও পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার খবর এসেছে। এর মধ্যে ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ ব্যাংক, কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক এবং বেসরকারি হাসপাতালের ওয়েবসাইটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো ওয়েবসাইট নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে মানেই সেটি হ্যাক হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মাইগভ বন্ধ থাকার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধান ও সংস্করণ হালনাগাদের কাজ চলছে।
এ অবস্থায় মাইগভের মাধ্যমে কোনো জরুরি সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নাগরিকদের ওয়েবসাইট চালুর বিষয়ে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত। বিকল্প কোনো সরকারি পোর্টাল বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সেবা নেওয়া সম্ভব কি না, তা সেই দপ্তরের সরকারি যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনে নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অননুমোদিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ নথি আপলোড করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
মাইগভের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা হালনাগাদ করা নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষার জন্য জরুরি। তবে সেবা বন্ধ থাকার সময় যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এখন সেবাপ্রত্যাশীদের প্রধান প্রশ্ন—কবে আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যাবে মাইগভ ডট বিডি? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী মঙ্গলবারের মধ্যে চালুর আশা থাকলেও চূড়ান্ত সময় জানতে সরকারি ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।