আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদিতে প্রবেশ করতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা
জাতীয় · 2026-10-26T15:51:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে না পারা যেসব বাংলাদেশি কর্মীর আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাঁদের পুনরায় সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তাঁদের প্রবেশপ্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার ও জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, তিন লাখ টাকায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকলে কর্মীদের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে যেন কর্মীদের কর্মজীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশগামী কর্মীদের যাত্রাপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু এবং এ বিষয়ে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশগামী ও প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গন্তব্য দেশের আইনকানুন মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করতে সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশি নাগরিকদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা জানান। তিনিও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।