শ্রীমঙ্গলের সময়

মুসলিম প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ বললেন ট্রাম্প, বড়দিন বন্ধের দাবি নিয়ে বিতর্ক

বিশ্ব · 2026-10-26T10:16:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে বক্তব্য | মুসলিম ব্রাদারহুড ও শরিয়াহ নিয়ে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নেই

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে বড়দিন উদযাপনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) মিশিগানের পোর্ট হুরনে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ও এল-সায়েদকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

সমাবেশে এল-সায়েদকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি হবেন একমাত্র সিনেটর, যাকে সিনেটে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’

এল-সায়েদের মুসলিম পরিচয় প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি, যাতে একজন জিহাদি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হতে না পারেন।’

আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এল-সায়েদ একজন সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি মার্কিন সংবিধান সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে তিনি কখনো মুসলিম ব্রাদারহুড বা কোনো বিদেশি সংগঠনের সদস্য ছিলেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন চালু করতে চান। তাঁর দাবি, এল-সায়েদ ও ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক ‘জিহাদি’ প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে, যাতে মানুষ বড়দিনও উদযাপন করতে পারবে না।

তবে এল-সায়েদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন চালুর পরিকল্পনা বা মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যপদ থাকার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করা হয়নি বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা বলছেন এল-সায়েদ

নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে আক্রমণের জবাবে এল-সায়েদ এসব বক্তব্যকে মূল সমস্যা থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রচারে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ব্যবহার করে আসছেন। ২০১৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কয়েকটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। পদক্ষেপটি ‘মুসলিম ব্যান’ নামে পরিচিতি পায়।

মিশিগানের সমাবেশেও ট্রাম্প মুসলিম অভিবাসন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং এল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।

এল-সায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন রজার্সও

সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স। এর আগে তিনি ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে রবিবারের সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান।

রজার্সও এল-সায়েদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি তাঁকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। রজার্সের অভিযোগ, এল-সায়েদ মুসলিম ব্রাদারহুড, হামাস ও হিজবুল্লাহকে সমর্থনকারী সংগঠনগুলোর কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি সমাবেশে প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সায়েদ ডিএসএর সদস্য নন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারে তোলা অভিযোগ এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও রজার্স সমাবেশে অংশ নেন। মিশিগানের সিনেট আসনটি দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও রজার্সের বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমবিরোধী বক্তব্য, রাজনৈতিক অভিযোগ এবং প্রমাণভিত্তিক বিতর্কের প্রশ্ন সামনে এনেছে।

তথ্য আলজাজিরা

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত