বিদায় নিতে এসে অঝোরে কাঁদলেন প্রধান শিক্ষক, কাঁদলেন সহকর্মীরাও
সারাদেশ · 2026-10-29T12:24:20.000000Z · ফরিদ মিয়া
দীর্ঘদিনের কর্মস্থল, প্রিয় সহকর্মী আর শিক্ষার্থীদের মায়া ছেড়ে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না প্রধান শিক্ষক সাহিদা ইয়াসমিন। অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিতে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন তিনি। প্রিয় সহকর্মীর কান্না দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি অন্য শিক্ষকরাও। স্মৃতিচারণ আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পরিবেশ। কর্মজীবনের শেষবেলায় এমন আবেগঘন দৃশ্য উপস্থিত সবার মনে নাড়া দেয়।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সৈয়দগ্রাম চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাহিদা ইয়াসমিনের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য দেখা যায়।
প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের সাগরের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক কামরুল হাসান ও বিল্লাল মাহমুদ মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আক্তার সুমি, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এনামুল হক বাবুল, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি রবিউল আলম ফরাজী, শিক্ষক নেতা আমিনুল ইসলাম আনজু,শিক্ষক নেতা রফিকুল ইসলাম খান নাসিম, শিক্ষক নেতা রবিউল নেওয়াজ ফরিদ এবং বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকতা শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি করাও এ পেশার গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাহিদা ইয়াসমিন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তাঁর অবদান বিদ্যালয় পরিবার স্মরণে রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখময় অবসরজীবন কামনা করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের শেষ হয় না। সাহিদা ইয়াসমিনের বিদায়বেলার অশ্রু আর সহকর্মীদের কান্না যেন সেই চিরচেনা সত্যই মনে করিয়ে দিল ভালোবাসার বন্ধনে গড়ে ওঠা কিছু সম্পর্ক কর্মস্থলের গণ্ডি পেরিয়েও থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে।