৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই হস্তান্তরের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
শিক্ষা · 2026-10-29T13:21:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বইয়ের মুদ্রণমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরোনো মেশিন ব্যবহার করে কাজ করা প্রতিষ্ঠানকে আগামী বছর থেকে কাজ না দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সব পাঠ্যবই আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে বইয়ের মুদ্রণমান নিশ্চিত করা এবং নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাতুয়াইলে বর্ণমালা প্রেস ও গ্লোবাল প্রিন্টিং ইকুইপমেন্ট পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় তিনি বই ছাপার প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কাগজের মান এবং মুদ্রণের গুণগত দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবই মুদ্রণের দায়িত্ব নেওয়ার অর্থ নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা। কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলে দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগেই তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। মুদ্রণযন্ত্রের সক্ষমতা বা কারিগরি সীমাবদ্ধতার অজুহাতে বইয়ের মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না।
পরিদর্শনের সময় কয়েকটি বইয়ে রঙের বিন্যাস ও অ্যালাইনমেন্টে অসংগতি দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। এসব ত্রুটি যেন ছাপানো বইয়ের বড় অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি। পাশাপাশি মুদ্রণকাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যবইয়ের মান নিশ্চিত করতে শুধু মুদ্রণকাজ শেষ করলেই হবে না; প্রতিটি বই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ছাপা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।
পুরোনো মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহার নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে পুরোনো মেশিন ব্যবহার করে মুদ্রণকাজ করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আর কোনো কাজ দেওয়া হবে না। এ জন্য ছাপাখানাগুলোকে আধুনিক ও উপযুক্ত সক্ষমতাসম্পন্ন মুদ্রণযন্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে এনসিটিবি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের লক্ষ্য পূরণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে বইয়ের মান যাচাই ও মুদ্রণপ্রক্রিয়ায় ত্রুটি এড়ানোর বিষয়েও নজর দিতে হবে।