শ্রীমঙ্গলের সময়

সরকারি চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

জাতীয় · 2026-10-29T12:52:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বেতন, পেনশন এবং ইনক্রিমেন্টসংক্রান্ত নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী তাঁদের বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি পেনশন, ইনক্রিমেন্ট ও আনুতোষিকসংক্রান্ত বিধানও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। অর্থ বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও একই দিনে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ওই তারিখের পরও বহাল রয়েছে, তাঁদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সমতুল্য গ্রেড ও ধাপে নির্ধারণ করা হবে। তাঁরা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ-২০২৬ অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তি অনুসারে প্রাপ্য ভাতাও পাবেন।

অন্যদিকে, ১ জুলাইয়ের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে তাঁদের অবসরের অব্যবহিত আগে পাওয়া মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা নিয়োগকারী ও নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তির মাধ্যমে স্থির করা বেতনও প্রযোজ্য হতে পারে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেনশনসংক্রান্ত বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য নির্ধারিত বেতন থেকে কম্যুটেশন বা পেনশন সমর্পণের আগের গ্রস পেনশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন বাদ দেওয়া হবে না। তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক বা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত নির্ধারণের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব শর্ত নির্ধারণ করা হবে। পরে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হবে।

নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের বিধানগুলোর পরিবর্তে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে যাঁদের চুক্তি ১ জুলাইয়ের পরও কার্যকর রয়েছে, তাঁদের বেতন কোন গ্রেড ও ধাপে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের আদেশ ও স্মারকের সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালার ফলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে প্রাপ্য বেতন ও সুবিধা নির্ভর করবে তাঁর নিয়োগের তারিখ, চুক্তির মেয়াদ, অবসরের আগে পাওয়া বেতন এবং প্রযোজ্য শর্তের ওপর।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত