শ্রীমঙ্গলের সময়

ডিসেম্বর সামনে রেখে পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পরিকল্পনা, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নিষিদ্ধ লীগের নাম

জাতীয় · 2026-11-03T08:03:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চলে সহিংসতা ও নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে দৈনিক যুগান্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাকশিল্পে অস্থিরতার নেপথ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। গত রোববার রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয়সহ প্রতিবেদন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, শ্রমিকদের উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কারখানা ভাঙচুর ও শিল্পাঞ্চল অচল করার পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয়। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে অর্থায়নের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। জড়িত ব্যক্তিদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের আড়ালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানীর মেট্রোরেল, কেপিআইভুক্ত এলাকা, ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শিল্পাঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি ন্যায্য। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক বক্তব্য ও শ্রমঘন শিল্প এলাকায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তাসলিমা আখতার বলেন, কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ শ্রমিকেরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন না। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে মালিকদের দ্রুত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানান।

সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, বর্তমান আন্দোলনকে সুস্থ বলা যায় না। সাধারণ শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে গেলেও তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারখানায় ঢিল ছুড়ে ও পথরোধ করে শ্রমিকদের আন্দোলনে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পোশাকশিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ শ্রমিকেরা কারখানা ভাঙচুরে অংশ নিতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত