শ্রীমঙ্গলের সময়

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ২০২৭ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারাচ্ছে রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা

বিশ্ব · 2026-11-03T08:10:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচি ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট’ (এজিওএ) থেকে রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশ দুটির জন্য এ সুবিধা বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটনের দাবি, দেশ দুটির কিছু নীতি ও কর্মকাণ্ড এ কর্মসূচির নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। একই সঙ্গে রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারকেও প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এজিওএ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আফ্রিকান দেশগুলো কয়েক হাজার পণ্য কোনো ধরনের আমদানি শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সুযোগ পায়। ২০০০ সালে চালু হওয়া এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা। তবে এ সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্যতা প্রতিবছর পর্যালোচনা করে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, বার্ষিক পর্যালোচনায় রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার এমন কিছু কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হয়েছে, যা এজিওএর যোগ্যতার শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে মার্কিন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে বাধা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ রয়েছে।

রুয়ান্ডার ক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, আইনের শাসন এবং শ্রমিকদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার নিয়ে আপত্তি তুলেছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে চলমান সংঘাতেও রুয়ান্ডার ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বিরোধ রয়েছে।

এর আগে পূর্ব কঙ্গোতে এম২৩ বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগে রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বিদ্রোহীদের পক্ষে লড়াই করতে রুয়ান্ডা হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। পাশাপাশি তাদের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, রসদ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছে। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধার পাশাপাশি দুর্নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে প্রিটোরিয়া। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী পার্কস টাউ মার্কিন উদ্যোগকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন এমন কিছু বিষয়কে কারণ হিসেবে সামনে আনছে, যেগুলো ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় গুরুত্ব পায়নি।

পার্কস টাউ আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা সুরক্ষায় নতুন বাজার খোঁজা এবং রপ্তানি গন্তব্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করবে তাঁর দেশ।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিও ব্রেন্ট বোজেল তৃতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার প্রত্যাখ্যান করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, দেশটির নীতিগত অবস্থানের কারণেই এজিওএ সুবিধা হারানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক মতপার্থক্য এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটির অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসোর সঙ্গে বৈঠকে দেশটিতে শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। একই সময়ে আফ্রিকানারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের সুযোগও উন্মুক্ত করে তাঁর প্রশাসন।

এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বেশ কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আগের শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানিমুখী শিল্প ও কৃষি খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আফ্রিকান অংশীদার দেশগুলো এজিওএর যোগ্যতার শর্ত পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত