মোটরসাইকেল-গাড়ির কাগজ নবায়নে শেষ সুযোগ
জাতীয় · 2026-10-26T14:11:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়া হালনাগাদের সময় ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সুযোগে শুধু মূল কর ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নবায়ন করা যাবে। বিআরটিএ এটিকে শেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে।
মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের মোটরযানের মালিক ও চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বকেয়া মূল কর ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অতিরিক্ত জরিমানা ছাড়াই গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে যাঁদের কাগজপত্র নবায়ন বাকি রয়েছে, তাঁদের হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র তিন দিন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিআরটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কর ও ফি পরিশোধ করে মোটরযানের ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অতিরিক্ত জরিমানা বা সারচার্জ থেকে অব্যাহতির সুযোগ থাকবে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, গ্রাহকদের সুবিধার্থে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং এটিকে শেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই যেসব মোটরযানের কর বা ফি বকেয়া রয়েছে কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর মালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই সুযোগের আওতায় মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের মোটরযানের ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে। তবে জরিমানা মওকুফের অর্থ এই নয় যে কোনো অর্থই দিতে হবে না। সংশ্লিষ্ট যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল কর ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
যাঁদের গাড়ির ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হয়নি কিংবা রুট পারমিট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ বাকি রয়েছে, তাঁদের দ্রুত নিজেদের নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। বকেয়া কত টাকা, কোন কোন কাগজ নবায়ন করতে হবে এবং কীভাবে অর্থ জমা দিতে হবে—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিস বা অনুমোদিত সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
নবায়নের আগে গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র, আগের ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য হাতের কাছে রাখা সুবিধাজনক। অনলাইনে অর্থ জমা বা আবেদন করার সুযোগ থাকলে বিআরটিএর সরকারি সেবা ব্যবস্থায় দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অর্থ পরিশোধের পর রসিদ সংরক্ষণ করাও জরুরি।
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকলে সড়কে চলাচলের সময় আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ২৯ অক্টোবরের পর আবার জরিমানা ছাড়াই নবায়নের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সুতরাং, মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিকদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের কাগজপত্রের অবস্থা যাচাই করা, বকেয়া মূল কর ও ফি নির্ধারণ করা এবং ২৯ অক্টোবরের মধ্যে হালনাগাদের প্রক্রিয়া শেষ করা। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে একই সুবিধা পাওয়া যাবে ধরে না নিয়ে বিআরটিএর পরবর্তী সরকারি নির্দেশনার দিকে নজর রাখা উচিত।