অ্যান্ড্রয়েড ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা যেভাবে জীবন বাঁচায়
প্রযুক্তি · 2026-10-26T13:59:14.000000Z · মেইল ডেস্ক
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের কাছে সবচেয়ে দামি জিনিস হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের পূর্বভাস। এই সামান্য সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে গুগল তাদের ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়াক অ্যালার্ট সিস্টেম’ আরও বড় পরিসরে নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে ২০০টিরও বেশি অঞ্চলে এই সুবিধা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল। ২০২১ সালে চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত গুগল বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটিরও বেশি মানুষকে এই অ্যালার্ট পাঠিয়েছে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক, এই স্মার্ট প্রযুক্তিটি ঠিক কীভাবে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে কীভাবে সতর্কবার্তা পান।
১. প্রযুক্তিটি আসলে কীভাবে কাজ করে?
গুগল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইলভিত্তিক ভূমিকম্প সনাক্তকরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেন্সর ব্যবহার করে। পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করেঃ
অ্যাক্সিলরোমিটার সেন্সর: বর্তমান প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই এই সেন্সরটি থাকে, যা মূলত ফোনের গতি ও নড়াচড়া ট্র্যাক করে।
প্রাথমিক তরঙ্গ সনাক্তকরণ: ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর ধ্বংসাত্মক মূল ঝাঁকুনি বা S-wave আসার আগে একধরনের দ্রুতগতির কিন্তু মৃদু প্রাথমিক তরঙ্গ নির্গত হয়। মানুষের পক্ষে তা অনুভব করা কঠিন হলেও ফোনের সেন্সর এটি দ্রুত ধরে ফেলতে পারে।
গুগল সার্ভারে সংকেত প্রেরণ: কোনো ফোন যখন এই মৃদু কম্পন বা তরঙ্গ টের পায়, তখন এটি তাৎক্ষণিকভাবে গুগলের লোকেশন সার্ভারে একটি সংক্ষিপ্ত ও এনক্রিপ্টেড সংকেত পাঠায়।
বিশ্লেষণ ও নিশ্চিতকরণ: গুগল সার্ভার মুহূর্তের মধ্যে দেখে যে নির্দিষ্ট ওই এলাকার অন্য কোনো ফোন থেকেও একই ধরনের সংকেত আসছে কি না। যখন শত শত ফোন থেকে একই সময়ে এমন সংকেত পাওয়া যায়, তখন সার্ভার নিশ্চিত হয় যে সেখানে সত্যি সত্যি ভূমিকম্প হচ্ছে এবং তা দ্রুত প্রভাবিত এলাকার অন্যান্য ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যালার্ট হিসেবে পাঠিয়ে দেয়।
২. ইউজার বা ব্যবহারকারী কীভাবে অ্যালার্ট পাবেন?
ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং ইউজারের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা মূলত তিন ধরনের সতর্কতা বা নোটিফিকেশন পান।
বি অ্যাওয়ার:
কখন আসে: মৃদু কম্পন অনুভূত হলে (হালকা ঝাঁকুনি)।
কীভাবে দেখায়: এটি ফোনের সাধারণ একটি নোটিফিকেশনের মতো আসে, যা জানান দেয় কাছাকাছি কোথাও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
বি রেডি:
কখন আসে: মাঝারি থেকে শক্তিশালী ঝাঁকুনির সম্ভাবনা থাকলে।
কীভাবে দেখায়: এতে তুলনামূলক বিস্তারিত সতর্কবার্তা থাকে। গুগলের নতুন আপডেট অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই এই অ্যালার্টে একটি মানচিত্র (যেখানে ঝাঁকুনির ব্যাসার্ধ দেখা যাবে), সম্ভাব্য রিখটার স্কেলের মাত্রা এবং জরুরি করণীয় নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে।
টেক অ্যাকশন:
কখন আসে: মাঝারি থেকে তীব্র বা বিপজ্জনক ঝাঁকুনির ক্ষেত্রে।
কীভাবে দেখায়: এটি একটি ফুল-স্ক্রিন অ্যালার্ট, যা ফোনের স্ক্রিন অন করে দেয় এবং উচ্চশব্দে অ্যালার্ম বাজাতে থাকে (এমনকি ফোন সাইলেন্ট বা 'ডু নট ডিস্টার্ব' মোডে থাকলেও)। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে রক্ষা করার উপায় (যেমন: টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা 'ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড অন') বাতলে দেওয়া হয়।
এই ফিচারটি পেতে ইউজারের কী করা করণীয়?
এর জন্য আলাদা কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন নেই। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফিচারটি সক্রিয় আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- ফোনের Settings অপশনে যান।
- সেখান থেকে Safety & emergency (অথবা লোকেশন সেটিংসে থাকা Earthquake Alerts) অপশনে প্রবেশ করুন।
- ফিচারটি On বা চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
- এছাড়া আপনার ফোনের Location (GPS) এবং ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখতে হবে।
গুগলের এই যুগোপযোগী উদ্যোগ বড় কোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সুরক্ষিত রাখতে এক বিশাল ভূমিকা পালন করছে।