পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, আঘাত হানবে যখন
জাতীয় · 2026-10-26T14:38:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এর প্রভাবে বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি বুধবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৭-এ এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ওই সময় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর আরও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। পরে বুধবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য উপকূল অতিক্রমের স্থান ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন হতে পারে। তাই সমুদ্রবন্দর ও মাছ ধরার নৌযানগুলোকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।