প্রাথমিকে সাড়ে ৩৪ হাজার পদ শূন্য, নিয়োগ নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় · 2026-10-26T14:50:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এসব পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধান শিক্ষক পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব পালনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগবিধি এবং পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মধ্যে লার্নিং টয়েস বা শিখন উপকরণ বিতরণ করেন। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তাঁদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখনদক্ষতা—ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমারেসি (এফএলএন)—যাচাই করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, লার্নিং টয়েস ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা ও বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো কোনো বিষয় বোঝাতে সময় লাগলেও খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণের মাধ্যমে শিশুরা তুলনামূলক সহজে তা অনুধাবন করতে পারে। এতে শেখার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা পাওয়া যায়।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করে আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: প্রদত্ত সংবাদতথ্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য।