শ্রীমঙ্গলের সময়

মাভাবিপ্রবিতে এসডিজি অর্জনে শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রম নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শিক্ষা · 2026-11-04T13:52:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রম কতটা ভূমিকা রাখছে, তা চিহ্নিত করতে কর্মশালার আয়োজন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। এতে বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রমের অবদান মূল্যায়ন এবং এসডিজি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রমের ভূমিকা চিহ্নিত করতে কর্মশালার আয়োজন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ক্লাবের কার্যক্রমের সঙ্গে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির সম্পৃক্ততা নিরূপণ এবং এসব কার্যক্রমের অবদান মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিই বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘মাভাবিপ্রবিতে এসডিজির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয়বিষয়ক কর্মশালা’ শীর্ষক আয়োজনটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ালিটি রিভিউ অ্যান্ড র‍্যাঙ্কিং কমিটি (কিউআরআরসি)। এতে সহযোগিতা করে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়লে শিক্ষার্থীদের সনদের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পায়। দেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনযাপনে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি এর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। এসডিজি অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ক্লাবগুলোর সাবেক সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কল্যাণে পরিচালিত কর্মকাণ্ড জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে মানবিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবু যুবাইর, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিউআরআরসির সদস্যসচিব ও প্রাইমারি রিসার্চ কন্ট্রাক্টের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান।

কর্মশালার প্রথম পর্বে রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান এবং কিউআরআরসির সদস্য ও পরিবেশবিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তন্ময় রায় তুষার। দ্বিতীয় পর্বে দায়িত্ব পালন করেন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. শাহ আদিল ইশতিয়াকসহ অন্য সদস্যরা।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর মধ্যে ছিল এমবিএসটিইউ ডিবেটিং সোসাইটি, রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব মাওলানা ভাসানী টাঙ্গাইল, এমবিএসটিইউ ফিল্ম সোসাইটি, এমবিএসটিইউ সাংবাদিক সমিতি, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ সোসাইটি, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ক্লাব, শহীদস্মৃতি পাঠচক্র, চিলড্রেনস হেভেন টাঙ্গাইল, ক্যারিয়ার ক্লাব, গ্রিন ক্লাব, স্পেস, টেক অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাব, সাহিত্য সংসদ, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ভয়েস রুট ক্লাব, সেন্ট্রাল ড্রামাটিক ক্লাব এবং সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক।

কর্মশালায় ক্লাবগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সম্পর্ক চিহ্নিত করার পাশাপাশি এসব উদ্যোগের অবদান মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা আরও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত