শ্রীমঙ্গলের সময়

ঢাকাসহ সারাদেশে র‍্যালির ঘোষণা বিএনপির

রাজনীতি · 2026-10-26T10:39:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি আয়োজন করবে বিএনপি। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে দলটি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় সারাদেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা।

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো আলোচনা সভা ও পোস্টার প্রকাশের কর্মসূচি পালন করবে। ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

রুহুল কবির রিজভী জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৬ নভেম্বর একটি আলোচনা সভা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায় চেয়ারম্যানের নির্ধারিত তারিখে আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। দিবসটি যথাযথভাবে পালনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের ইতিহাসে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ দিনের চেতনার সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়টি জড়িত।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংঘাত ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান সংকটময় সময়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ৭ নভেম্বরের পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। তিনি ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও প্রভাব ফেলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবার উন্মুক্ত হয়।

রিজভী বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের মানুষের অধিকার রক্ষায় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে এ দিনের চেতনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত