নতুন ইনোভা হাইক্রসে বড় পরিবর্তন, থাকছে যেসব সুবিধা
প্রযুক্তি · 2026-11-01T15:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
নতুন ইনোভা হাইক্রসে বড় পরিবর্তন, থাকছে যেসব সুবিধা
নতুন ইনোভা হাইক্রসে বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন আনছে টয়োটা। ইন্দোনেশিয়ায় নতুন অবতারে আত্মপ্রকাশ করেছে টয়োটা কিজাং ইনোভা জেনিক্স। ভারতে একই মডেল ইনোভা হাইক্রস নামে বিক্রি হয়। নতুন সংস্করণে কেবিন, ডিজিটাল ডিসপ্লে এবং গাড়ির বাইরের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৬ নভেম্বর ২০২৬ ভারতের বাজারে ফেসলিফটেড মডেলটি উন্মোচন করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
ইন্দোনেশিয়ায় নতুন কিজাং ইনোভা জেনিক্সের হাইব্রিড সংস্করণের দাম শুরু হয়েছে ৪৭৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়া থেকে। জাকার্তার বাজারে ২.০ জি হাইব্রিড সিভিটি ভ্যারিয়েন্টটির দাম ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২৪ লাখ ৮৭ হাজার রুপি। ভারতে বর্তমানে ইনোভা হাইক্রসের এক্স-শোরুম দাম ১৯ লাখ ৫৩ হাজার রুপি থেকে শুরু হয়ে ৩২ লাখ ৯৫ হাজার রুপি পর্যন্ত। তবে নতুন ফেসলিফট সংস্করণের দাম এখনো ঘোষণা করেনি টয়োটা।
নতুন মডেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে গাড়ির ভেতরের অংশে। হাইব্রিড ভ্যারিয়েন্টগুলোতে থাকছে ১২.৩ ইঞ্চির ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। অন্যদিকে, ভি হাইব্রিড ও এর ওপরের ভ্যারিয়েন্টগুলোতে দেওয়া হয়েছে ১২.৩ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন।
পরীক্ষামূলক মডেলের ছবি থেকে আগে উঁচু সেন্টার কনসোল ও নতুন অটোমেটিক গিয়ার সিলেক্টরের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ফেসলিফটেড মডেলে সফটওয়্যারের উন্নতি, নতুন সিট আপহোলস্ট্রি এবং গাড়ির ভেতরে গাঢ় রঙের থিমও থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে আসন বিন্যাসে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
গাড়ির বাইরের নকশাতেও পরিবর্তন এনেছে টয়োটা। নতুন ইনোভা হাইক্রসে আরও চৌকো ধরনের ফ্রন্ট গ্রিল থাকতে পারে। গ্রিলের মধ্যে থাকবে ডায়মন্ড আকৃতির নকশা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরু প্রজেক্টর হেডল্যাম্প এবং নতুন ডিজাইনের ফ্রন্ট বাম্পার।
সামনের বাম্পারের নিচের অংশে নতুন এয়ার ইনটেক ডিজাইন দেখা যেতে পারে। পরীক্ষামূলক মডেলগুলোতে হেডল্যাম্পের তুলনায় কিছুটা উঁচুতে পিক্সেল-স্টাইলের এলইডি ফগ ল্যাম্পও দেখা গেছে। পাশাপাশি নতুন অ্যালয় হুইল এবং টেলল্যাম্পের ভেতরে পরিবর্তিত এলইডি গ্রাফিক্স থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গাড়ির পাশের সামগ্রিক নকশা, টেলগেট, রুফ স্পয়লার, শার্ক ফিন অ্যান্টেনা ও পেছনের ওয়াইপার আগের মতোই থাকতে পারে।
ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে নতুন মডেলে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। আগের মতোই দুটি পাওয়ারট্রেন বিকল্প থাকতে পারে। প্রথমটি ২.০ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন, যা প্রায় ১৭৩ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে থাকবে সিভিটি গিয়ারবক্স।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে থাকছে ২.০ লিটারের স্ট্রং হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন। এর সম্মিলিত শক্তি প্রায় ১৮৪ হর্সপাওয়ার এবং এর সঙ্গে ই-সিভিটি ট্রান্সমিশন দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেট্রল সংস্করণের মাইলেজ প্রতি লিটারে ১৬ দশমিক ১৩ কিলোমিটার এবং হাইব্রিড সংস্করণের মাইলেজ ২৩ দশমিক ২৪ কিলোমিটার হতে পারে।
তবে নতুন ইনোভা হাইক্রসের চূড়ান্ত দাম, ভ্যারিয়েন্টভিত্তিক সুবিধা এবং ভারতে বাজারে আসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি টয়োটা।