শ্রীমঙ্গলের সময়

হটস্পট ছাড়াই অন্য ফোনে ইন্টারনেট দেবেন যেভাবে

প্রযুক্তি · 2026-11-01T09:54:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ব্লুটুথ টেথারিংয়ের মাধ্যমে একটি ফোনের মোবাইল ডেটা অন্য সমর্থিত ডিভাইসে শেয়ার করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডে Bluetooth tethering এবং আইফোনে Personal Hotspot চালু করে পেয়ারিংয়ের মাধ্যমে এ সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব। তবে সব ফোনে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে এবং ওয়াই-ফাই হটস্পটের তুলনায় গতি কম হতে পারে।

কিভাবে ব্লুটুথের মাধ্যমে অন্য ফোনে ইন্টারনেট শেয়ার করবেন? অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের সহজ নিয়ম

এক ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ আছে, কিন্তু অন্য ফোনে ডেটা নেই—এমন পরিস্থিতিতে ওয়াই-ফাই হটস্পট ছাড়াও ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ব্লুটুথ টেথারিং। এর মাধ্যমে একটি ফোনের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে অন্য ডিভাইসে ইন্টারনেট চালানো যায়। বিশেষ করে ওয়াই-ফাই হটস্পট ব্যবহার করতে না চাইলে, অথবা কাছাকাছি থাকা একটি ডিভাইসে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্লুটুথ টেথারিং কাজে আসতে পারে।

তবে ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করার পদ্ধতি সাধারণ হটস্পটের মতো নয়। শুধু দুটি ফোনের ব্লুটুথ চালু করে পেয়ার করলেই সব ক্ষেত্রে ইন্টারনেট চালু হবে না। যে ফোন থেকে ইন্টারনেট দেওয়া হবে, সেটিতে ব্লুটুথ টেথারিং চালু করতে হবে। অন্য ফোনেও ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক সংযোগ ব্যবহারের সুবিধা থাকতে হবে। ফোনের ব্র্যান্ড, অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী সেটিংসের নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।

ব্লুটুথ ইন্টারনেট শেয়ারিং কী?

ব্লুটুথ ইন্টারনেট শেয়ারিং হলো এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে একটি ডিভাইসের ইন্টারনেট সংযোগ ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য ডিভাইসে পৌঁছে দেওয়া হয়। একে ব্লুটুথ টেথারিংও বলা হয়। এ ক্ষেত্রে যে ফোনে মোবাইল ডেটা চালু রয়েছে, সেটি ইন্টারনেট সরবরাহকারীর ভূমিকা পালন করে। অন্য ফোনটি ব্লুটুথের মাধ্যমে সেই সংযোগ ব্যবহার করে ইন্টারনেট চালায়।

সাধারণত মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট শেয়ার করার জন্য ওয়াই-ফাই হটস্পট বেশি পরিচিত। তবে হটস্পটের পাশাপাশি অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Bluetooth tethering নামে আলাদা সুবিধা রয়েছে। আইফোনেও Personal Hotspot-এর মাধ্যমে ব্লুটুথ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ধরনের ডিভাইসে ইন্টারনেট শেয়ার করা যায়।

কেন ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করবেন?

ব্লুটুথ টেথারিংয়ের একটি সুবিধা হলো, এতে ওয়াই-ফাই হটস্পট চালু করার প্রয়োজন হয় না। কোনো কারণে হটস্পট ব্যবহার করতে না চাইলে বা অন্য ডিভাইসের সঙ্গে ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট দিতে চাইলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।

আরেকটি বিষয় হলো, ব্লুটুথ টেথারিং সাধারণত ওয়াই-ফাই হটস্পটের তুলনায় কম বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট শেয়ার করার ক্ষেত্রে এটি কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে কতটা ব্যাটারি সাশ্রয় হবে, তা ফোনের মডেল, নেটওয়ার্কের অবস্থা এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ব্লুটুথ ব্যবহার করলে মোবাইল ডেটা কম খরচ হয়, এমন নয়। আপনি অন্য ফোনে যে ওয়েবসাইট দেখবেন, ভিডিও চালাবেন বা অ্যাপ ব্যবহার করবেন, সেই অনুযায়ী মূল ফোনের ডেটা প্যাক থেকেই ইন্টারনেট খরচ হবে। ব্লুটুথ মূলত সংযোগের মাধ্যম, ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর প্রযুক্তি নয়।

অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে অন্য ফোনে ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করার নিয়ম

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্লুটুথ টেথারিং চালু করার পদ্ধতি তুলনামূলক সহজ। তবে Samsung, Xiaomi, Redmi, Realme, OPPO, Vivo, Motorola ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের ফোনে সেটিংসের অবস্থান আলাদা হতে পারে।

প্রথমে যে অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে ইন্টারনেট শেয়ার করবেন, সেটিতে মোবাইল ডেটা চালু করুন। এরপর ফোনের Settings বা সেটিংস অপশনে প্রবেশ করুন। সেখানে Connections, Network & Internet অথবা Mobile Network নামে কোনো অপশন খুঁজে নিন।

এরপর Hotspot & Tethering অথবা Personal Hotspot অপশনে প্রবেশ করুন। সেখানে Bluetooth tethering নামে একটি অপশন পাওয়া গেলে সেটি চালু করে দিন। কিছু ফোনে এই অপশনটি সরাসরি Hotspot & Tethering-এর মধ্যে থাকে, আবার কোনো কোনো ফোনে Connection sharing বা অন্য নামে থাকতে পারে।

এবার যে ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান, সেটির Bluetooth চালু করুন। একইভাবে প্রথম ফোনের Bluetooth-ও চালু রাখুন। এরপর দ্বিতীয় ফোনের ব্লুটুথ সেটিংস থেকে প্রথম ফোনের নাম খুঁজে বের করে সেটির সঙ্গে পেয়ার করুন। দুই ফোনে পেয়ারিংয়ের অনুমতি চাইলে উভয় ডিভাইসে প্রদর্শিত কোড মিলিয়ে নিশ্চিত করুন।

পেয়ারিং সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ফোনের Bluetooth সেটিংসে প্রথম ফোনের নামের পাশে থাকা সেটিংস বা গিয়ার আইকনে প্রবেশ করুন। সেখানে Internet access, Internet sharing বা এ ধরনের কোনো অপশন থাকলে সেটি চালু করুন। সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এই অপশন থাকে না। ফোনের সফটওয়্যার ও ডিভাইস সমর্থন করলে সংযোগটি কার্যকর হবে।

সবকিছু ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় ফোনে ব্রাউজার খুলে কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পরীক্ষা করুন। ইন্টারনেট চালু হলে বুঝবেন ব্লুটুথ টেথারিং কাজ করছে।

আইফোন থেকে ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করার নিয়ম

আইফোনে ইন্টারনেট শেয়ার করার সুবিধাটি Personal Hotspot নামে পরিচিত। আইফোন থেকে অন্য ডিভাইসে ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযোগ দিতে হলে প্রথমে মোবাইল ডেটা চালু রাখতে হবে।

এরপর আইফোনের Settings-এ প্রবেশ করে Personal Hotspot অপশন খুলুন। সেখানে Allow Others to Join চালু করুন। প্রয়োজন হলে Bluetooth-ও চালু রাখুন। আইফোনে Personal Hotspot চালু থাকলে সমর্থিত অন্য ডিভাইস ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পেতে পারে।

এবার যে ডিভাইসে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান, সেটির Bluetooth চালু করে আইফোনের সঙ্গে পেয়ার করুন। কম্পিউটার বা অন্য সমর্থিত ডিভাইসে ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক সংযোগের সুবিধা থাকলে সেটি নির্বাচন করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইফোন থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা সব মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণে একইভাবে কাজ করে না। অনেক ক্ষেত্রে আইফোনের Personal Hotspot ব্যবহার করে ওয়াই-ফাই সংযোগ নেওয়াই সহজ সমাধান। তাই ব্লুটুথে পেয়ার হওয়ার পরও ইন্টারনেট না চললে সেটিকে শুধু পেয়ারিংয়ের সমস্যা মনে করবেন না; দুই ডিভাইসের ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক সমর্থনও যাচাই করতে হবে।

ব্লুটুথ টেথারিংয়ের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে ওয়াই-ফাই হটস্পটের প্রয়োজন হয় না। কাছাকাছি থাকা সমর্থিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। কিছু পরিস্থিতিতে এটি হটস্পটের তুলনায় কম ব্যাটারি খরচ করতে পারে। পাশাপাশি কোনো কেবল ছাড়াই সংযোগ দেওয়া সম্ভব।

তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেটের গতি সাধারণত ওয়াই-ফাই হটস্পটের তুলনায় কম হতে পারে। ফলে বড় ফাইল ডাউনলোড, অনলাইন গেম খেলা, উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও দেখা কিংবা দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রয়োজন এমন কাজে এটি খুব সুবিধাজনক নয়।

ব্লুটুথের কার্যকর দূরত্বও সীমিত। দুটি ডিভাইসের মধ্যে দূরত্ব বেশি হলে বা মাঝখানে বাধা থাকলে সংযোগ দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে সব ফোনে ব্লুটুথ টেথারিংয়ের সুবিধা বা অন্য ফোন থেকে এই সংযোগ গ্রহণের সমর্থন থাকে না। তাই ব্যবহার করার আগে ডিভাইসের সেটিংস যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্লুটুথের মাধ্যমে ইন্টারনেট শেয়ার করতে গিয়ে সমস্যা হলে সমাধান

অনেক সময় দুটি ফোন পেয়ার হওয়ার পরও ইন্টারনেট চলে না। এমন হলে প্রথমে নিশ্চিত করুন, যে ফোন থেকে ইন্টারনেট শেয়ার করছেন সেটিতে মোবাইল ডেটা চালু আছে এবং সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে। এরপর Bluetooth tethering বন্ধ করে আবার চালু করুন।

দ্বিতীয় ফোনে পেয়ার করা ডিভাইসের সেটিংসে Internet access বা অনুরূপ কোনো অপশন আছে কি না দেখুন। অপশনটি থাকলে সেটি চালু করুন। এরপরও কাজ না হলে দুই ফোনের ব্লুটুথ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আবার পেয়ার করুন।

সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হলে দুটি ফোন কাছাকাছি রাখুন। ব্লুটুথ বন্ধ করে আবার চালু করতে পারেন। প্রয়োজনে ফোন দুটি রিস্টার্ট করে চেষ্টা করুন। ফোনের সফটওয়্যার আপডেট থাকলে সেটিও পরীক্ষা করুন।

আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখুন, মোবাইল অপারেটরের ডেটা প্যাক বা নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা থাকলে ব্লুটুথ টেথারিং করেও ইন্টারনেট পাওয়া যাবে না। তাই প্রথমে মূল ফোনে ইন্টারনেট ঠিকভাবে কাজ করছে কি না নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই হটস্পট নাকি ইউএসবি টেথারিং—কোনটি ব্যবহার করবেন?

কোন পদ্ধতি ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনের ওপর। দ্রুতগতির ইন্টারনেট শেয়ার করতে চাইলে ওয়াই-ফাই হটস্পট সাধারণত ভালো বিকল্প। কম্পিউটারে স্থিতিশীল সংযোগ প্রয়োজন হলে এবং কেবল ব্যবহারের সুযোগ থাকলে ইউএসবি টেথারিং কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াই-ফাই হটস্পট ব্যবহার না করে কাছাকাছি থাকা সমর্থিত ডিভাইসে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট দিতে চাইলে ব্লুটুথ টেথারিং ব্যবহার করতে পারেন।

তবে মনে রাখতে হবে, তিনটি পদ্ধতিতেই মূল ফোনের মোবাইল ডেটা ব্যবহার হবে। ফলে অন্য ডিভাইসে ভিডিও দেখা, অ্যাপ আপডেট বা বড় ফাইল ডাউনলোড করলে আপনার ডেটা প্যাক দ্রুত শেষ হতে পারে।

উপসংহার

ব্লুটুথের মাধ্যমে অন্য ফোনে ইন্টারনেট শেয়ার করা একটি বিকল্প ও কার্যকর সংযোগ পদ্ধতি। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Bluetooth tethering চালু করে এবং সমর্থিত ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ার করে এ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। আইফোনেও Personal Hotspot-এর মাধ্যমে ব্লুটুথ সংযোগে ইন্টারনেট শেয়ার করা সম্ভব, তবে ডিভাইসের সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁদের ওয়াই-ফাই হটস্পট ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই বা বিকল্প সংযোগ দরকার, তাঁরা ব্লুটুথ টেথারিং চেষ্টা করতে পারেন। তবে এটি সব ফোনে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে এবং ইন্টারনেটের গতিও তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই হটস্পট অথবা ইউএসবি টেথারিংয়ের মধ্যে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত