শ্রীমঙ্গলের সময়

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানির কাছাকাছি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা

বিশ্ব · 2026-11-03T09:58:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। একই সঙ্গে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে নতুন এক জনমত জরিপে।

সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থনের হার আগের সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দুই সপ্তাহ আগে তাঁর জনপ্রিয়তা নেমেছিল ৩১ শতাংশে, যা ছিল সর্বনিম্ন। নতুন জরিপের ফলও সেই অবস্থানের কাছাকাছি।

কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান—এমন প্রশ্নে ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন জানিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ের এ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা আট শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তবে আগের সপ্তাহে ব্যবধান ছিল ১১ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপে অংশ নেন ১ হাজার ৭৬৫ জন মার্কিন নাগরিক। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের নাম ব্যালটে না থাকলেও ভোটের প্রচারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সমর্থকদের নিজের কথা মনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হলে ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারে।

জরিপের ফলাফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের ওপর বেশি আস্থা জানিয়েছেন উত্তরদাতারা। তাঁদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকানদের বেশি সক্ষম মনে করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন ব্যয়ে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থনে প্রভাব ফেলছে বলে জরিপের ফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

রিপাবলিকানদের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রচার শেষ হয়।

রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ওই স্থানের সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস পর শেষ হয় এবং ব্যয় মূল বাজেটের ১০ গুণেরও বেশি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেষ মুহূর্তের প্রচারেও নিজের দলের জয়ের বিষয়ে পুরোপুরি আশাবাদী হতে দেখা যায়নি ট্রাম্পকে। সোমবার তিনি বলেন, সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পায় না। তবে তাঁর দল জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।

এদিকে জরিপে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, ভোট দিতে তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহী। রিপাবলিকান ভোটারদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৩ শতাংশ। ফলে ভোটার উপস্থিতি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত