শ্রীমঙ্গলের সময়

ঘুম থেকে উঠেই যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.), জানুন আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

ধর্ম · 2026-10-28T00:02:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রশংসা করে যে দোয়া পড়তেন, তা সহিহ বুখারির হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। জেনে নিন দোয়াটির আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আখিরাত স্মরণের শিক্ষা।

সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর অনেকেই দিনের কাজ শুরু করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ মোবাইল ফোন হাতে নেন, কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু একজন মুমিন মুসলমানের দিনের শুরু হতে পারে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যে দোয়া পড়তেন, তা সহিহ হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। দোয়াটির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, জীবনের মূল্য উপলব্ধি এবং পরকালে তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার স্মরণ।

ইসলামে প্রতিদিনের জীবনে আল্লাহকে স্মরণ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর একটি ছোট দোয়া পড়ার অভ্যাসের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের দিনটি আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করতে পারেন। এ জন্য দোয়াটির আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

হজরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, মহানবী (সা.) যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন একটি দোয়া পড়তেন। আর ঘুম থেকে জেগে উঠলে আল্লাহর প্রশংসা করে বলতেন, “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।” হাদিসটি সহিহ বুখারির ‘দোয়াসমূহ’ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। এর আন্তর্জাতিক হাদিস নম্বর ৬৩১২। সূত্র: সহিহ বুখারি।

ঘুম থেকে জেগে ওঠার এই দোয়ার আরবি পাঠ হলো, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ। এর বাংলা উচ্চারণ, “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা, ওয়া ইলাইহিন নুশূর।” দোয়াটির বাংলা অর্থ হলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর আবার জীবিত করেছেন। আর তাঁর কাছেই আমাদের পুনরুত্থান।

দোয়াটির অর্থের দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, ঘুম থেকে জেগে ওঠাকে এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে। মানুষ ঘুমিয়ে পড়ার পর কখন জেগে উঠবে, তা তার নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই নতুন করে জেগে ওঠার সুযোগ পাওয়াকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করা যায়। দোয়াটি একজন মুমিনকে মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি নতুন সকালই আল্লাহর দেওয়া একটি সুযোগ।

এই দোয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আখিরাতের স্মরণ। দোয়ার শেষাংশে বলা হয়েছে, “ওয়া ইলাইহিন নুশূর”, অর্থাৎ তাঁর কাছেই পুনরুত্থান। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং পরকালে পুনরুত্থিত হতে হবে। ফলে দিনের শুরুতেই এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যের কথাও স্মরণ করতে পারেন।

দোয়াটি পড়ার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরই এটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। যাঁরা আরবি পড়তে পারেন না, তাঁরা বাংলা উচ্চারণের সাহায্যে শিখতে পারেন। তবে আরবি পাঠ শুদ্ধভাবে শেখার চেষ্টা করা উচিত, কারণ বাংলা উচ্চারণ আরবি ভাষার সব ধ্বনি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে না। পাশাপাশি দোয়ার অর্থ বুঝে পড়লে এর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করা সহজ হয়।

শিশুদেরও ছোটবেলা থেকে ঘুম থেকে ওঠার দোয়া শেখানো যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা নিজেরা এই অভ্যাস গড়ে তুললে শিশুদের মধ্যেও ইসলামি শিক্ষা ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার মানসিকতা তৈরি হতে পারে। তবে দোয়াটি পড়লেই নির্দিষ্ট কোনো পার্থিব ফল নিশ্চিত হবে—এমন দাবি করার পরিবর্তে এর প্রকৃত অর্থ ও হাদিসে বর্ণিত আমল হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এই দোয়া পড়ার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর প্রশংসা করতে পারেন, নতুন দিনের জন্য কৃতজ্ঞ হতে পারেন এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করতে পারেন। ছোট হলেও এটি একটি অর্থবহ ইসলামি অভ্যাস, যা দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহকে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি করে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত