বিমানে বিনা মূল্যে খাবার পাওয়া যায় কি? জেনে নিন নিয়ম
জাতীয় · 2026-10-27T16:48:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বিদেশে যাওয়ার জন্য বিমানে উঠেছেন, সিটে বসেছেন, বিমান উড্ডয়নও করেছে—কিন্তু খাবার কখন দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনেক যাত্রীর মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়া প্রবাসীদের মধ্যে প্রথমবার বিমানে ভ্রমণের সময় এ ধরনের কৌতূহল দেখা যায়। কেউ জানতে চান, বিমান আকাশে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই খাবার দেওয়া হয় কি না, কেউ আবার জানতে চান, দীর্ঘ ফ্লাইটে কয়বার খাবার পাওয়া যায় এবং খাবারের জন্য আলাদা টাকা দিতে হয় কি না।
বাস্তবে বিমানে খাবার পরিবেশনের কোনো নির্দিষ্ট সময় সব এয়ারলাইনের জন্য প্রযোজ্য নয়। ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য, যাত্রার সময়, এয়ারলাইনের নীতি, টিকিটের ধরন এবং বিমানের ভেতরে কী ধরনের খাবারসেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—এসব বিষয়ের ওপর খাবার পরিবেশন নির্ভর করে। কোনো ফ্লাইটে গরম খাবার পরিবেশন করা হতে পারে, আবার স্বল্পদৈর্ঘ্যের কোনো ফ্লাইটে স্যান্ডউইচ, হালকা নাশতা কিংবা পানীয় দেওয়া হতে পারে। কিছু এয়ারলাইনে টিকিটের সঙ্গে খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে, আবার কিছু ফ্লাইটে খাবার কিনে নিতে হয়।
তাই বিদেশযাত্রার আগে শুধু বিমানের টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানলেই হবে না; বিমানে খাবার, পানি, বিশেষ খাবারের অনুরোধ এবং অন্যান্য যাত্রীসেবা সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন।
বিমানে ওঠার কতক্ষণ পর খাবার দেওয়া হয়?
বিমানে ওঠার পর ঠিক কত মিনিটের মধ্যে খাবার দেওয়া হবে, তার কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। যাত্রীদের বোর্ডিং সম্পন্ন হওয়া, বিমান উড্ডয়ন, সিটবেল্টের নির্দেশনা এবং কেবিন ক্রুদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লাইটের পরিস্থিতি অনুযায়ী খাবারসেবা শুরু হতে পারে।
অনেক ফ্লাইটে উড্ডয়নের কিছু সময় পর খাবার পরিবেশন শুরু হয়। তবে খাবার দেওয়ার আগে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, তা এয়ারলাইন ও ফ্লাইটের ওপর নির্ভর করে। স্বল্পদৈর্ঘ্যের ফ্লাইটে খাবারসেবা সীমিত হতে পারে, আবার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে একাধিকবার খাবার ও পানীয় পরিবেশন করা হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো গন্তব্যে যাওয়া ফ্লাইটের খাবারসেবা এবং ঢাকা থেকে ইউরোপের দীর্ঘদৈর্ঘ্যের ফ্লাইটের খাবারসেবা এক রকম নাও হতে পারে। আবার একই রুটে ভিন্ন এয়ারলাইনের সেবাতেও পার্থক্য থাকতে পারে।
এ কারণে বিমানে ওঠার পর নির্দিষ্ট ৩০ মিনিট, এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টার মধ্যে খাবার দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের খাবারসেবা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
বিমানে কি বিনা মূল্যে খাবার পাওয়া যায়?
সব ফ্লাইটে বিনা মূল্যে খাবার পাওয়া যায় না। বিষয়টি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নীতি, রুট, টিকিটের ধরন এবং ভাড়ার শর্তের ওপর।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরকারি ওয়েবসাইটে উড়োজাহাজের খাবারসেবা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া রয়েছে। এয়ারলাইনটি তাদের মেনুতে বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক খাবারের সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করেছে। দীর্ঘদৈর্ঘ্যের ফ্লাইটের নমুনা মেনুতে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের বিভিন্ন পদ এবং খাবারের সঙ্গে পানীয়ের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, flydubai তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তাদের ইকোনমি ও বিজনেস শ্রেণির ভাড়ায় খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। খাবারের ধরন ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য ও যাত্রার সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
তবে এসব উদাহরণ থেকে সব এয়ারলাইনের জন্য একই নিয়ম ধরে নেওয়া যাবে না। কোনো এয়ারলাইনে নির্দিষ্ট টিকিটের সঙ্গে খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, আবার অন্য কোনো এয়ারলাইনে খাবার কিনতে হতে পারে।
টিকিট কাটার আগে বুকিংয়ের শর্তে খাবার অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় ফেয়ার ডিটেইলস, ইনক্লুডেড সার্ভিসেস বা খাবারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তথ্য স্পষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
বিমানে কী ধরনের খাবার দেওয়া হয়?
বিমানে খাবারের মেনু এয়ারলাইন, ফ্লাইটের সময়, গন্তব্য এবং ভ্রমণশ্রেণি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, হালকা নাশতা এবং পানীয় পরিবেশন করা হতে পারে।
সকালের নাশতায় ডিম, পাউরুটি, ক্রসাঁ, ফলের রস, চা-কফি কিংবা অন্যান্য হালকা খাবার থাকতে পারে। দুপুর বা রাতের খাবারে ভাত, মাংস, সবজি, সালাদ, রুটি, পাস্তা কিংবা গন্তব্য ও এয়ারলাইনের মেনু অনুযায়ী অন্য পদ দেওয়া হতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকাশিত নমুনা মেনুতে সকালের নাশতার পাশাপাশি চিকেন কারি, ভাত, সবজি, সালাদ ও ডেজার্টের মতো খাবারের উল্লেখ রয়েছে। তবে এগুলো নমুনা মেনু; প্রতিটি ফ্লাইটে একই খাবার পরিবেশন করা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এ ছাড়া কোনো কোনো ফ্লাইটে খাবারের সঙ্গে পানি, চা, কফি, ফলের রস বা অন্যান্য পানীয় দেওয়া হতে পারে। কোন পানীয় বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে এবং কোনটির জন্য অর্থ দিতে হবে, তা এয়ারলাইনের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
যাত্রীদের মনে রাখতে হবে, বিমানের খাবার সব সময় নিজের পছন্দমতো নির্বাচন করার সুযোগ থাকে না। কিছু ফ্লাইটে নির্দিষ্ট মেনু পরিবেশন করা হয়, আবার কিছু এয়ারলাইনে খাবারের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
দীর্ঘ ফ্লাইটে কয়বার খাবার দেওয়া হয়?
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে একাধিকবার খাবার পরিবেশন করা হতে পারে। তবে কয়বার খাবার দেওয়া হবে, তা ফ্লাইটের মোট সময়, যাত্রার সময়সূচি, এয়ারলাইনের মেনু এবং সেবানীতির ওপর নির্ভর করে।
দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রার শুরুতে একটি প্রধান খাবার, পরে হালকা নাশতা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে আরেকটি খাবার দেওয়া হতে পারে। সকালের সময় যাত্রা হলে নাশতা এবং দুপুর বা রাতের সময় হলে সংশ্লিষ্ট সময়ের উপযোগী খাবার পরিবেশন করা হতে পারে।
তবে সব দীর্ঘ ফ্লাইটে একই সংখ্যক খাবার দেওয়া হয় না। কোনো ফ্লাইটে একবার প্রধান খাবার ও পানীয় দেওয়া হতে পারে, আবার অন্য ফ্লাইটে একাধিক খাবার পরিবেশন করা হতে পারে।
এয়ারলাইনের ওয়েবসাইটে খাবারসেবা সম্পর্কে তথ্য থাকলে যাত্রার আগে তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারী যাত্রীদের জন্য আগে থেকে খাবারসংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়া সুবিধাজনক।
বিমানে পানি চাইলে কি পাওয়া যায়?
অনেক এয়ারলাইনে খাবার পরিবেশনের সময় পানীয় দেওয়া হয়। কিছু এয়ারলাইনে পানীয় অন্য সময়েও চাওয়া যায়। তবে পানি ও অন্যান্য পানীয়ের প্রাপ্যতা এবং সেবার ধরন এয়ারলাইনভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাদের খাবারের সঙ্গে পানীয় পরিবেশন করা হয় এবং পানীয়ের জন্য অনুরোধ করার সুযোগও রয়েছে। তবে এই তথ্যকে অন্য সব এয়ারলাইনের জন্য প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।
বিমানে পানি প্রয়োজন হলে কেবিন ক্রুর কাছে ভদ্রভাবে অনুরোধ করা যেতে পারে। তবে বিমান উড্ডয়ন, অবতরণ কিংবা টার্বুলেন্সের সময় নিরাপত্তার কারণে কেবিন ক্রুরা চলাচল সীমিত করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের নির্দেশনা মেনে অপেক্ষা করতে হবে।
যাত্রার আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী পানীয় বহনের নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। নিরাপত্তা তল্লাশির আগে কেনা বা সঙ্গে আনা তরল পদার্থের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা থাকতে পারে। নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার পর বিমানবন্দরের অনুমোদিত দোকান থেকে কেনা পানীয় বহনের নিয়মও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের বিধির ওপর নির্ভর করতে পারে।
বিশেষ খাবার চাইলে কী করবেন?
অনেক যাত্রীর নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস বা স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন থাকে। কেউ নিরামিষ খাবার খান, কেউ ধর্মীয় কারণে নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলেন, আবার কারও ডায়াবেটিস বা অন্য স্বাস্থ্যগত কারণে বিশেষ খাবারের প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু এয়ারলাইন যাত্রীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখে। এর মধ্যে নিরামিষ খাবার, শিশুদের খাবার, নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজনের উপযোগী খাবার কিংবা ধর্মীয় খাদ্যবিধি অনুযায়ী প্রস্তুত খাবার থাকতে পারে।
তবে বিশেষ খাবার সব ফ্লাইটে পাওয়া যায় না। এয়ারলাইনের নীতি, রুট এবং ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী এই সুবিধা সীমিত হতে পারে।
কাতার এয়ারওয়েজের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যাত্রীরা বুকিংয়ের সময় অথবা পরবর্তী সময়ে ‘ম্যানেজ বুকিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিশেষ খাবারের অনুরোধ করতে পারেন। সাধারণত ফ্লাইট ছাড়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অনুরোধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট রুটে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
এ কারণে বিশেষ খাবার প্রয়োজন হলে টিকিট কাটার সময়ই বিষয়টি জানানো ভালো। বুকিং সম্পন্ন হয়ে গেলে এয়ারলাইনের ওয়েবসাইট বা গ্রাহকসেবা বিভাগের মাধ্যমে অনুরোধ করা যেতে পারে।
বিশেষ খাবারের অনুরোধ নিশ্চিত হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। শুধু অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলেই সব ক্ষেত্রে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত হবে, এমন নয়।
শিশুদের জন্য বিমানে আলাদা খাবার পাওয়া যায় কি?
শিশু নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করলে খাবারসংক্রান্ত প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু এয়ারলাইন শিশুদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখে। তবে এই সুবিধা ফ্লাইটের ধরন, শিশুর বয়স, এয়ারলাইনের নীতি এবং আগে থেকে অনুরোধ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
কিছু এয়ারলাইনে শিশুর খাবার আগাম বুক করতে হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে শিশু বা দুই বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ খাবারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ছোট শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে প্রতিটি এয়ারলাইনে একই সুবিধা পাওয়া যাবে, এমন নয়।
শিশু নিয়ে ভ্রমণের আগে এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খাবার, শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং অনুমোদিত সামগ্রী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
শিশু যদি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে বিমানে খাবার পাওয়া যাবে ধরে নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। এয়ারলাইনের নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় উপযোগী খাবার বা নাশতা সঙ্গে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস বা বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে কী করবেন?
ডায়াবেটিস, খাদ্যসংক্রান্ত অ্যালার্জি কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে যাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেতে হয়, তাঁদের যাত্রার আগে পরিকল্পনা করা জরুরি।
প্রথমেই এয়ারলাইনের বিশেষ খাবারের সুবিধা সম্পর্কে জানতে হবে। নির্দিষ্ট খাবারের অনুরোধ করা গেলে তা যথাসময়ে করতে হবে। তবে বিশেষ খাবার পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প প্রস্তুতি রাখা ভালো।
গুরুতর খাদ্য-অ্যালার্জি থাকলে শুধু বিশেষ খাবার অর্ডার করলেই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত থাকা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কিছু এয়ারলাইন তাদের খাবারে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তাই যাত্রার আগে এয়ারলাইনকে নিজের সমস্যার কথা জানানো উচিত।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী হাতব্যাগে রাখা যেতে পারে। তবে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর এবং গন্তব্য দেশের প্রযোজ্য নিয়ম মানতে হবে।
যাঁদের নির্দিষ্ট সময় পরপর খাবার খাওয়া জরুরি, তাঁদের কেবল বিমানের খাবার পরিবেশনের সময়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা রাখা উচিত।
বিমানে খাবার না পেলে যাত্রীর করণীয় কী?
বিমানে খাবার পরিবেশন শুরু হলেও কোনো যাত্রী খাবার না পেলে প্রথমে নিজের আসনের আশপাশে এবং খাবার বিতরণের পরিস্থিতি খেয়াল করতে পারেন। এরপর কেবিন ক্রুর কাছে ভদ্রভাবে বিষয়টি জানানো উচিত।
কখনো বিশেষ খাবারের অনুরোধ নথিভুক্ত না হওয়া, খাবারের সীমিত প্রাপ্যতা অথবা অন্য কোনো পরিচালনাগত কারণে সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেবিন ক্রুরা কী ব্যবস্থা নিতে পারবেন, তা এয়ারলাইনের নিয়ম ও ফ্লাইটের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
যদি টিকিটের সঙ্গে খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে, অথচ কোনো খাবারসেবা না পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি এয়ারলাইনের কর্মীদের কাছে জানানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে পরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের গ্রাহকসেবা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
তবে খাবার না পাওয়ার প্রতিটি ঘটনাই যে এয়ারলাইনের নিয়মভঙ্গ, এমনটি বলা যাবে না। ফ্লাইটের নিরাপত্তা, আবহাওয়া, পরিচালনাগত পরিস্থিতি কিংবা অন্যান্য কারণে সেবায় পরিবর্তন হতে পারে।
যাত্রীদের উচিত শান্ত থাকা, কেবিন ক্রুদের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে এয়ারলাইনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো।
বিমানে নিজের খাবার সঙ্গে নেওয়া যাবে কি?
কিছু পরিস্থিতিতে যাত্রীরা নিজেদের খাবার সঙ্গে নিতে পারেন। তবে খাবারের ধরন, গন্ধ, সংরক্ষণের প্রয়োজন এবং নিরাপত্তাবিধির ওপর নির্ভর করে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
বাইরে থেকে আনা খাবার বিমানে গরম করা বা ঠান্ডা রাখার সুবিধা সব এয়ারলাইনে পাওয়া যায় না। তাই এমন খাবার নেওয়া উচিত নয়, যা গরম করা বা বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা ছাড়া খাওয়া সম্ভব নয়।
খাবার সঙ্গে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নীতি এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবিধি যাচাই করা জরুরি। তরল বা আধা-তরল খাবারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি প্রযোজ্য হতে পারে। আবার কিছু দেশে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ফল, মাংসজাত খাবার, বীজ, দুগ্ধজাত পণ্য কিংবা অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী গন্তব্য দেশে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের কাস্টমস ও কোয়ারেন্টিন বিধি যাচাই করতে হবে।
নিজের খাবার সঙ্গে নিলে তা নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করা এবং অন্য যাত্রীদের অসুবিধা হয় এমন তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
দীর্ঘ ফ্লাইটে খাবার ও পানীয় নিয়ে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীরা অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা বিমানের ভেতরে থাকেন। তাই যাত্রার আগে খাবারসেবা সম্পর্কে জানা এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া উপকারী।
প্রথমত, টিকিটের সঙ্গে খাবার অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিশেষ খাবার প্রয়োজন হলে আগেই অনুরোধ করতে হবে। তৃতীয়ত, খাবার পরিবেশনের সময় সম্পর্কে ধারণা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া উচিত নয়।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাড়তি পরিকল্পনা জরুরি। তাঁদের প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নির্দেশনা সম্পর্কে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া যাত্রার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানো এবং ফ্লাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিমানে খাবার পরিবেশনের সময় কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের নির্দেশনা দেবেন। কোনো খাবার বা পানীয়ের প্রয়োজন হলে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে।
বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য খাবারসেবা সম্পর্কে জরুরি চেকলিস্ট
বিমানে ওঠার আগে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করে নিলে খাবারসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়ানো সহজ হতে পারে।
১. টিকিটের সঙ্গে খাবার অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
২. ফ্লাইটের দৈর্ঘ্য ও যাত্রার সময় অনুযায়ী কী ধরনের খাবার পাওয়া যেতে পারে, তা জেনে নিন।
৩. বিশেষ খাবার প্রয়োজন হলে এয়ারলাইনের নিয়ম অনুযায়ী আগাম অনুরোধ করুন।
৪. শিশু বা স্বাস্থ্যগত বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
৫. গুরুতর খাদ্য-অ্যালার্জি থাকলে এয়ারলাইনকে আগে থেকে জানান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সঙ্গে রাখুন।
৬. নিজের খাবার সঙ্গে নিতে চাইলে নিরাপত্তা ও গন্তব্য দেশের নিয়ম যাচাই করুন।
৭. খাবার পরিবেশনে দেরি হলে কেবিন ক্রুর কাছে ভদ্রভাবে জানতে চান।
৮. দীর্ঘ ফ্লাইটে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন এবং কেবল নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দেওয়া হবে ধরে নেবেন না।