শ্রীমঙ্গলের সময়

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৬৪

বিশ্ব · 2026-10-28T14:29:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে দেশটির তোলেদো প্রদেশের উর্দা শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চালানোর পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি রেল সংস্থা ইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একই দিকে চলাচলকারী ট্রেন দুটির একটি থেমে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে ধাক্কা খায়। এতে ট্রেনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

দুর্ঘটনায় জড়িত রেনফের ট্রেনটি মাদ্রিদ থেকে সেভিল যাচ্ছিল। ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, ইরিওর ট্রেনটিতে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ট্রেন দুটিতে ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মী, উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বগিতে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনার কারণে মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধান করছে। রেনফে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের সহায়তায় জরুরি ব্যবস্থা চালু করেছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় কোনো ইতালীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মাদ্রিদে ইতালির কনস্যুলেট বিষয়টি যাচাই করছে। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া হবে।

স্পেনে এর আগেও বড় ধরনের রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আদামুজের কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর দেশটির রেল নিরাপত্তা ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে ২০১৩ সালে স্পেনের সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার কাছে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দেশটির ইতিহাসে ওই দুর্ঘটনা অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত