শ্রীমঙ্গলের সময়

ক্ষমা পাওয়ার আশায় প্রতিদিন সকালে যে ইস্তিগফার পড়তে পারেন

ধর্ম · 2026-10-31T00:40:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

প্রতিদিন সকালে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহসম্মত আমল। সহিহ বুখারির হাদিসে এই দোয়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। পাশাপাশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ার মাধ্যমে নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত।

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কখনো জেনে, কখনো না জেনে আমরা নানা ধরনের গুনাহে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার দরজা সব সময় খোলা রেখেছেন। তাই একজন মুমিনের জীবনে ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিশেষ করে প্রতিদিন সকাল শুরু করার সময় ইস্তিগফার পড়ার অভ্যাস একজন মুসলমানকে আল্লাহর স্মরণে দিন শুরু করতে সাহায্য করে।

ইস্তিগফারের অর্থ হলো নিজের ভুল ও গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। অথচ তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রিয় রাসুল এবং তাঁর পূর্বাপর গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, ইস্তিগফার শুধু গুনাহগার মানুষের জন্য নয়; বরং প্রত্যেক মুসলমানের নিয়মিত আমল হওয়া উচিত।

সকালে পড়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার হলো ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার’। অর্থাৎ ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এই দোয়া পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে সন্ধ্যায় পড়ে রাতের মধ্যে মারা গেলেও তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩০৬)

দোয়াটি হলো:

আরবি:

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু। আউযু বিকা মিন শাররি মা সানাতু। আবুউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিযামবি। ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা।

বাংলা অর্থ:

হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অবিচল আছি। আমি যা করেছি, তার অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি এবং নিজের গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।

এই দোয়াটি সকালে একবার আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে পড়তে পারেন। পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময়েও ইস্তিগফার করা যায়। তবে শুধু মুখে দোয়া পড়লেই যথেষ্ট নয়; নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা এবং ভবিষ্যতে সেই ভুলে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করাও তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আরেকটি নিয়মিত আমল ছিল বেশি বেশি ইস্তিগফার করা। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, তিনি দিনে ৭০ বারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করতেন। অন্য বর্ণনায় ১০০ বার ইস্তিগফারের কথাও এসেছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩০৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭০২)

সহজ একটি ইস্তিগফার হলো ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। এর আরবি হলো:

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

বাংলা উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।

বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

কেউ চাইলে প্রতিদিন সকালে এই ছোট্ট ইস্তিগফার বারবার পড়তে পারেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা সময়কে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বলে দাবি করার আগে নির্ভরযোগ্য দলিল থাকা জরুরি। নিজের সুবিধামতো নিয়মিত ইস্তিগফার করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

ইস্তিগফারের গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনেও নির্দেশনা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ এরপর বৃষ্টিপাত, সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন নিয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সুরা নুহ, আয়াত ১০–১২)

তবে মনে রাখতে হবে, ইস্তিগফার কোনো যান্ত্রিক পাঠ নয়। এর সঙ্গে অন্তরের অনুতাপ ও কাজের পরিবর্তন থাকা জরুরি। কারও অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা তার কাছে ক্ষমা চাওয়াও প্রয়োজন। আর কোনো গুনাহের জন্য তওবা করার পর আবার ভুল হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে পুনরায় আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে।

প্রতিদিন সকালে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার ও ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আল্লাহর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করুন, তাঁর রহমত কামনা করুন এবং ভালো কাজের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করার চেষ্টা করুন। কারণ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে ফিরে আসাই একজন মুমিনের পথ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত