শ্রীমঙ্গলের সময়

ইসরায়েলের নির্বাচনে বদলাবে কি গাজার ভাগ্য, আশায়-শঙ্কায় ফিলিস্তিনিরা

বিশ্ব · 2026-10-27T14:52:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন গাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ যুদ্ধ, বারবার ঘরছাড়া হওয়া, অবরোধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে তাঁদের আশা—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে হয়তো পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। তবে নতুন সরকার এলেও গাজার বিষয়ে ইসরায়েলের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না তাঁদের।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। আল জাজিরার ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গাজার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় হামলা, কঠিন জীবনযাপন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।

নেতানিয়াহুর বিদায়ে স্বস্তির আশা: উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ এলিয়ান এখন পাঁচ সন্তানকে নিয়ে দেইর আল-বালাহ এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি আশা করেন, নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কেউ সরকারপ্রধান হলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কিছুটা কমতে পারে।

আল জাজিরাকে এলিয়ান বলেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে কে জয়ী হন, তা তাঁরা অনুসরণ করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটাবে এবং বারবার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্বস্তির সুযোগ তৈরি করবে।

তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও কট্টর ডানপন্থী মিত্ররা আবার ক্ষমতায় ফিরলে গাজায় আরও যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কা করছেন তিনি। সাবেক সামরিক কমান্ডার গাদি আইজেনকোটকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখলেও এলিয়ান মনে করেন, নেতৃত্ব বদলালেই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হবে না।

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ: উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত ৪১ বছর বয়সী ইসলাম সালেম তিন মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর মতে, ইসরায়েলের রাজনীতির সিদ্ধান্ত গাজার মানুষের জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করে। কিন্তু নতুন মুখ সরকারে এলেও নীতিগত পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।

সালেম গাজার ভূখণ্ডের বড় অংশে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ এবং পুনর্গঠনের অনিশ্চয়তা নিয়েও উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা তাঁরা জানেন না; এখন প্রতিদিনের জীবন পার করাই তাঁদের বড় চ্যালেঞ্জ।

বারবার বাস্তুচ্যুতির আতঙ্ক: ৫৭ বছর বয়সী হানান আবু আল-মাযা যুদ্ধের সময় ১২ বারের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নেতানিয়াহু পরাজিত হলে বেইত লাহিয়ায় নিজের বাড়িতে ফেরার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে আশা করেন তিনি। তবে নতুন সরকারও গাজার মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে—এমন ভয় তাঁর মধ্যে রয়েছে।

উত্তর গাজার বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী মানার ওওয়াইদাও নির্বাচনের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আশা করেন, নতুন সরকার গাজার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করতে এবং ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখার বাইরে সেনা প্রত্যাহারে উদ্যোগ নিতে পারে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিজ এলাকায় ফেরার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।

নেতৃত্ব বদলালেই নীতি বদলাবে? উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত ৩৩ বছর বয়সী মুসা আলি মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ফেরার সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। বিরোধী পক্ষ সরকার গঠন করলে এবং আরব দলগুলো রাজনৈতিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারলে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে আশা করেন তিনি।

তবে গাজা নিয়ে ইসরায়েলের নীতিতে বড় পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দেখছেন না বিশ্লেষকেরাও। রয়টার্সের ২২ অক্টোবরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট—দুজনই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে দেখেন। তবে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক জোটের প্রশ্নে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

গাজার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা তাই শুধু ইসরায়েলের ক্ষমতার পালাবদল নয়। তাঁরা চান হামলা বন্ধ হোক, অবরোধ শিথিল হোক, নিরাপদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হোক এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের ঘরে ফিরতে পারুক। নির্বাচনের ফল সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা,

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত