শ্রীমঙ্গলের সময়

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য, বাংলাদেশ কত নম্বরে?

খেলা · 2026-10-27T15:33:07.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বপরিসরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পুরুষদের টেস্ট দলীয় র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৭ রেটিং নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে টাইগাররা। অন্যদিকে, ১২৬ রেটিং নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২৭ ম্যাচে ৩৪১১ পয়েন্ট নিয়ে দলটি নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শীর্ষ পাঁচ দলের পরেই রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো ফল অর্জন করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২৫টি ম্যাচ খেলে ১৯১৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে। দলের রেটিং ৭৭, যা তাদের ষষ্ঠ অবস্থানে রেখেছে। বাংলাদেশের ঠিক ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ড, যাদের রেটিং ১০২। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য চারটি দল হলো অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারত। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দেশের টেস্ট ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দলটির ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের গুরুত্বও স্পষ্ট করে। র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যবধান কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটি ১৯টি ম্যাচ খেলে ২২৫৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে, তাদের রেটিং ১১৯। তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের ২২ ম্যাচে পয়েন্ট ২৩৩৬ এবং রেটিং ১০৬। চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতের ২৯ ম্যাচে ৩০৪২ পয়েন্ট ও ১০৫ রেটিং রয়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা ইংল্যান্ড ৩৬টি ম্যাচ খেলে ৩৬৫৮ পয়েন্ট অর্জন করেছে, তাদের রেটিং ১০২। এই দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশের সামনে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে ইতিবাচক ফল অর্জন করলে রেটিং উন্নতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের পেছনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে রেটিংয়ের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য। সপ্তম স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার রেটিং ৭৫, যা বাংলাদেশের চেয়ে দুই পয়েন্ট কম। শ্রীলঙ্কা ১৯টি ম্যাচ খেলে ১৪৩৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে। অষ্টম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৭৪ এবং পয়েন্ট ২০০৮। দলটি খেলেছে ২৭টি ম্যাচ। নবম স্থানে থাকা পাকিস্তানের রেটিং ৭১, তাদের ম্যাচসংখ্যা ২৩ এবং পয়েন্ট ১৬২৩। দশম স্থানে রয়েছে জিম্বাবুয়ে, ১৩ ম্যাচে ২১৭ পয়েন্ট নিয়ে দলটির রেটিং ১৭। এই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে এবং নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় রেটিংয়ে এগিয়ে।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতির সম্ভাবনা নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। ব্যাটসম্যানদের দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকা, গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ইনিংস খেলা এবং বোলারদের প্রতিপক্ষের উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা দলীয় সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের ধারাবাহিকতা, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ এবং চাপের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নও জরুরি। বিদেশের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা এবং দেশের মাটিতে সুযোগ কাজে লাগানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারলে দলটি নিজেদের রেটিং বাড়ানোর সুযোগ পাবে। তবে শুধু বর্তমান র‍্যাঙ্কিং দেখে ভবিষ্যৎ অবস্থান নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের রেটিংয়ের ব্যবধান ৪৯ পয়েন্ট। এই ব্যবধান দেখায় যে শীর্ষস্থানীয় দলের পর্যায়ে পৌঁছাতে বাংলাদেশের সামনে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানই ভবিষ্যতের ফল নির্ধারণ করে না; মাঠের পারফরম্যান্সই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রথমে নিজেদের ষষ্ঠ অবস্থান শক্তিশালী করা, এরপর ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে ওপরের দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমানো। শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক। এই অবস্থান কাজে লাগিয়ে আরও ভালো ফল অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। প্রতিটি টেস্ট ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির পথ তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রকাশিত আইসিসি পুরুষদের টেস্ট দলীয় র‍্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে এবং বাংলাদেশ ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ৭৭ রেটিং নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দশের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি অংশ। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে, শীর্ষ পাঁচে থাকা দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে ধারাবাহিক জয় ও উন্নত দলীয় পারফরম্যান্স প্রয়োজন। বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে আরও ভালো ফলের দিকে এগিয়ে যাওয়া। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন করতে পারলে র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির সম্ভাবনাও বাড়বে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত