শ্রীমঙ্গলের সময়

পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি 

সারাদেশ · 2026-10-27T14:16:27.000000Z · জেলা প্রতিনিধি

পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া অংশে পদ্মা ও গড়াই নদীর মোহনায় কাকন বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। অন্যদিকে, পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় অবস্থান নেয় কালু বাহিনী। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ পরপর গোলাগুলি চলতে থাকে।

সংঘর্ষের নেপথ্যে যেসব বিরোধ: স্থানীয়দের ধারণা, পদ্মা নদী ও চরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি এবং কৃষিজমি ও খড় দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নৌকার মাঝির ভাষ্য: স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়ন জানান, কাকন বাহিনীর লোকজন প্রথমে একটি ট্রলারে করে এসে গোলাগুলি শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি নৌকা এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। দুপুর ২টা থেকে বিরতি দিয়ে দিয়ে গুলি চলছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য: রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর নৌ পুলিশের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশের দলও রয়েছে। তিনি জানান, গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। কলাবাগান এলাকা পর্যন্ত নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সন্ধ্যার পর নতুন করে গোলাগুলি বা সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরাও এরপর আর গুলির শব্দ শোনেননি বা নতুন কোনো সংঘর্ষের পরিস্থিতি দেখতে পাননি।

এদিকে, পদ্মা নদী ও চরাঞ্চলে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত