শ্রীমঙ্গলের সময়

যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের শর্ত পূরণের দাবি মুজতবা খামেনির

বিশ্ব · 2026-10-27T14:57:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের ঘোষিত শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। একই সঙ্গে ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ইরানের জনগণ ও দেশটির ভাষায় ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন মুজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তাঁর কার্যালয়ের বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

নীতিনির্ধারণে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব: বৈঠকে মুজতবা খামেনি বলেন, এসএনএসসি ও এর সচিবালয় রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসব ক্ষেত্রের পারস্পরিক প্রভাব বিবেচনায় রাখতে হবে।

সঠিক ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় ঐক্য ও জনগণের আস্থা: বৈঠকে জাতীয় সংহতি জোরদার, জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো এবং দেশের সমস্যা সমাধানে প্রেসিডেন্ট ও নির্বাহী সংস্থাগুলোকে সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন সর্বোচ্চ নেতা।

এ ছাড়া জনগণের অংশগ্রহণ ধরে রাখতে সময়োপযোগী ও সক্রিয় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজ প্রণালি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে মোহসেন রেজায়ি ইরানের বিভিন্ন খাতের পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতাকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, এসএনএসসির সচিবালয়ের অন্যতম উদ্যোগ হলো ইরানের নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কৌশল এগিয়ে নেওয়া।

যুদ্ধবিরতি ও নতুন সংঘাতের প্রেক্ষাপট: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০২৬ সালের ১৭ জুন ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং পরবর্তী আলোচনার কাঠামো নির্ধারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে আবার উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত শুরু হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে প্রথম দফার সংঘাত শুরু হয়েছিল, যা ১২ দিন স্থায়ী হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয় এবং এপ্রিলের শুরুতে সাময়িকভাবে থামে। ইরান দাবি করেছে, তাদের পাল্টা হামলার কারণে প্রতিপক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে সংঘাতের কারণ ও যুদ্ধবিরতি ভাঙার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও নৌ-অবরোধের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পদক্ষেপ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

স্থায়ী সমাধানে তেহরানের শর্ত: মুজতবা খামেনির বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা সোমবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসেনি।

সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে—তেহরান যুদ্ধের অবসান চাইলেও নিজেদের ঘোষিত শর্ত, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্বার্থ সুরক্ষাকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে। এসব শর্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স,

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত