বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর অভিযোগ, অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি
বিশ্ব · 2026-10-27T15:04:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ভারতের কলকাতার বেহালায় এক তরুণ, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবার কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে হাঁটিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত তিনজনকে খালি গায়ে, হাফপ্যান্ট পরিয়ে ও খালি পায়ে হাঁটানো হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)।
পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন: সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য কিশোরীর বাবা, মামা এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক আরেক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় তাঁদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটানো হয়। ঘটনার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের এমন আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, বেহালার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণের অংশ হিসেবে পুলিশও তাঁদের খালি গায়ে, খালি পায়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটিয়েছে। তাঁর মতে, এভাবে অভিযুক্তদের সঙ্গে আচরণ করে পুলিশ গুরুতর অন্যায় করেছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: গত রোববার (২৫ অক্টোবর) কলকাতার সরশুনা থানার অন্তর্গত বেহালার বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এক বন্ধু। ওই তরুণ কিশোরীকে চুমু খেয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে কিশোরীর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর কিশোরীর বাবা ও মামা ওই তরুণ ও তাঁর বন্ধুকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে তরুণের বাবাকেও সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তরুণের বাবাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তরুণ, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত: ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ কিশোরীর বাবা, মা ও মামাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে মারধর, অবৈধভাবে আটকে রাখা, হুমকি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধের বিষয় রয়েছে।
ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা আগ্নেয়াস্ত্রটি তখনও উদ্ধার করা যায়নি বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ করে। তবে পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তদের যেভাবে প্রকাশ্যে হাঁটানো হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও অভিযুক্তদের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন উঠেছে।
আইন প্রয়োগে মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্ন: একদিকে তরুণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিবস্ত্র করে হাঁটানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একই ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি অভিযুক্তদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: পিটিআই, দ্য টেলিগ্রাফ