৫৩ বছরের রেকর্ড ভাঙল ইসরায়েলের ভোটার উপস্থিতি, দুপুরেই ভোট ৩১.৫ শতাংশ
বিশ্ব · 2026-10-27T14:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশটির ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ্য ভোটার ভোট দিয়েছেন। ১৯৭৩ সালের পর কোনো নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২৩ লাখের বেশি নাগরিক। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময়ে ভোটদানের হার ছিল ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সে হিসাবে এবার ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানান, ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকায় কিছু ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে লাইনে অপেক্ষা করা প্রত্যেক ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড়: ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোটার উপস্থিতির হার আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি ছিল। সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোটদানের হার দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশে। ১৯৮১ সালের পর ওই সময়ের জন্য এটিই সর্বোচ্চ হার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আগের নির্বাচনে একই সময়ে ভোটদানের হার ছিল ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
শহর ও পৌরসভাভেদে ভোটদানের হারে পার্থক্য দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত তেল আবিব, জেরুজালেম ও হাইফার মতো শহরগুলোতে ভোট পড়ার হার ২৭ থেকে ২৯ শতাংশের মধ্যে ছিল বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকার ভোটদানের হারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সামরিক সদস্যদের ভোটেও অগ্রগতি: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা পর্যন্ত যোগ্য সামরিক সদস্যদের ৩০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। আগের নির্বাচনে একই সময়ে এই হার ছিল ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে সামরিক সদস্যদের মধ্যেও ভোটদানের হার বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
১২০ আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা: ইসরায়েলের ২৬তম নেসেট নির্বাচনে মোট ৭৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৮১ জন নাগরিক ভোট দেওয়ার যোগ্য। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৩৬টি রাজনৈতিক তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দেশজুড়ে ১২ হাজার ১৮টি নিয়মিত ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অধিকাংশ কেন্দ্র স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা।
ভোটারদের ভিড়ের কারণে কিছু কেন্দ্রে অপেক্ষার সময় বেড়েছে বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভোটারদের পরিচয় যাচাই ও নির্বাচনী নিয়ম মেনে ভোটগ্রহণ পরিচালনার কারণে কোথাও কোথাও বিলম্ব হচ্ছে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্টের: নির্বাচনে অংশ নিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। ভোট দেওয়ার পর তিনি নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
চূড়ান্ত ফল পেতে অপেক্ষা: ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা শুরু হবে। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি বিশেষ ‘দ্বৈত খাম’ পদ্ধতিতে দেওয়া ব্যালট যাচাই করে গণনা করতে হয়। এসব ভোটের কারণে চূড়ান্ত আসন বণ্টন নির্ধারণে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য সাধারণত ১২০ আসনের মধ্যে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেল, তার পাশাপাশি কোন রাজনৈতিক জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন জোগাড় করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভোট গণনা ও পরবর্তী জোট আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ স্পষ্ট হবে না।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল,