৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
সারাদেশ · 2026-10-28T22:58:00.000000Z · সিনিয়র রিপোর্টার
ভিটেমাটি বিক্রি, চড়া সুদে ঋণ কিংবা মা-বাবার শেষ সম্বলটুকু সমর্পণ করে এক বুক আশা নিয়ে যারা প্রবাসে পাড়ি জমান—তাদের জীবনগল্প কেবল রক্তঘামে অর্জিত রেমিট্যান্সের গল্প। অবৈধ পথের বিভীষিকা, দালালের প্রতারণা আর প্রবাসের অমানুষিক খাটুনির শিকার হাজারো যুবকের বোবা কান্নার মাঝে নতুন এক আশার বাণী শুনিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আনসার সদস্যদের কর্মসংস্থান কেন্দ্র ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানান।তিনি ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ কোটি দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে।মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ আর কখনোই অবৈধ পন্থায় বিদেশ যাওয়ার মতো আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেবে না। যারা সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে, তাদের পরিণতি অত্যন্ত কঠিন হবে।প্রবাসীদের আর্তনাদ ও বাস্তবতার প্রশ্নপ্রতিটি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখলেও তাদের জীবন কেন বারবার দালালের পাঁকে আটকে ধ্বংস হয়ে যায়—এই প্রশ্ন এখন সর্বমহলে। কালিয়াকৈরসহ দেশের হাজারো গ্রামের মেঠোপথে হেঁটে গেলেই শোনা যায় নিঃস্ব পরিবারের আহাজারি। ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন কত শত যুবক।মন্ত্রী যখন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলছেন, তখন গ্রামের সেইসব প্রবাসীদের চোখের জল যেন প্রশ্ন তোলে—‘প্রশিক্ষণ তো পাব, কিন্তু প্রতারণামুক্ত জীবনের নিশ্চয়তা কে দেবে?’আশ্বাসের পাশাপাশি কঠোর নজরদারির প্রত্যাশাঅনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রতিটি উপজেলা থেকে শ্রমিকদের সঠিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রাখার আশ্বাস দেন। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই মহাপরিকল্পনা যেন কেবল কাগজে-কলমে বা বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন প্রতিটি প্রবাসীর জীবন সুরক্ষার সত্যিকারের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।কালিয়াকৈরের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চায় না আর কোনো সন্তান বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হোক, কোনো মায়ের বুক খালি হোক। প্রবাসীদের রক্তঘাম করা উপার্জনে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও, তাদের দুঃখ-দুর্দশা মোচনে সরকার কতখানি কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে পারে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং একাডেমির গার্মেন্টস কারখানা, প্যান্ট্রিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।