শ্রীমঙ্গলের সময়

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই জরুরি: নুর আহমদ বকুল

সারাদেশ · 2026-10-28T23:22:00.000000Z · শ্রীমঙ্গলের সময় ডেস্ক


​মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা এবং সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদবিরোধী সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ রাসেল আহমেদ খানের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেছেন, "মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লড়াইয়ে সকল প্রগতিশীল শক্তিকে আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"​আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুব মৈত্রী নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য শহীদ রাসেল আহমেদ খানের ২০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে 'রাসেল আহমেদ খান স্মৃতি ভবনে' আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।​নুর আহমদ বকুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০ বছর আগে ২০০৬ সালের এই দিনে চরম মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে জনতার প্রতিরোধ সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন রাসেল আহমেদ খান। সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে অকুতোভয় যুবনেতা রাসেল শহীদ হন। দেশের গণতন্ত্র, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর এই আত্মত্যাগ বর্তমান সময়ে নতুন করে স্মরণ করা জরুরি।​দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমানে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ও বাম গণতান্ত্রিক শক্তি এক অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত পার করছে। ট্যাগিং রাজনীতি ও ‘মব সন্ত্রাসের’ মাধ্যমে প্রতিশোধের একটি নতুন ধারা তৈরি করা হয়েছে। যত্রতত্র ফতোয়াবাজির নামে নারীর ওপর সহিংসতা চলছে এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ভাস্কর্য অব্যাহতভাবে ভাঙচুর করা হচ্ছে। সেই সাথে গান-বাজনা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির দাবি-দাওযাও নৃশংসভাবে দমন করা হচ্ছে। দেশের এই চিত্র বলে দেয় যে সুশাসন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।"​এ সময় তিনি অবিলম্বে প্রগতিশীল ও বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান এবং জননেতা রাশেদ খান মেননের মুক্তির দাবি জানান।​বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তাপস দাসের সঞ্চালনায় সভায় অন্য বক্তারা বলেন, রাসেল আহমেদ খানের আত্মত্যাগের দুই দশক পরেও সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী শক্তি সক্রিয় রয়েছে। বক্তারা দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ বেকারের তৈরি হওয়া সত্ত্বেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ার সমালোচনা করেন এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও বেকার ভাতার জোর দাবি জানান।​আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাবেক সভাপতি সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিশোর রায়, সাবেক সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতন, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির, যুব ঐক্যের আহ্বায়ক মিনহাজ সেলিম, যুব মৈত্রীর সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ মিনার, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইয়াতুন নেছা রুমা এবং দপ্তর সম্পাদক মাহাবুদ রানা তরুণ।​এর আগে সকালে শহীদ রাসেল আহমেদ খানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধানিবেদন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ এবং জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত