সৌদি আরবের দিকে ৭ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
বিশ্ব · 2026-10-27T10:59:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
সৌদি আরবের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটল।
জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, হুতিরা সৌদি আরবের ইস্টার্ন প্রভিন্সের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন নিক্ষেপ করে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে, সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা জারি করে। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, দুই এলাকাতেই তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলায় কোনো হতাহত হয়েছে কি না কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। গত মাসে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুতিদের অগ্রযাত্রা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে তাদের অগ্রসর হওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের অবস্থানে হামলা জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগপথ। এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির জন্যও এই পথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই অনেকটা কমে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা উল্লেখ করেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স,