শ্রীমঙ্গলের সময়

ই-পাসপোর্টের নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস—কোন সেবায় কত দিনে পাবেন পাসপোর্ট?

জাতীয় · 2026-10-27T10:59:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ই-পাসপোর্টের আবেদন করার সময় অনেকেই বুঝতে পারেন না, নিয়মিত, এক্সপ্রেস নাকি সুপার এক্সপ্রেস—কোন ধরনের ডেলিভারি বেছে নেওয়া ভালো। মূলত পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাব্য সময় এবং নির্ধারিত ফি-র মধ্যে রয়েছে পার্থক্য। তাই আবেদন করার আগে নিজের প্রয়োজন, সময় এবং বাজেট বিবেচনা করে সঠিক সেবা নির্বাচন করা জরুরি।

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের ডেলিভারি সেবা সাধারণত নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস—এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। প্রতিটি সেবার জন্য নির্ধারিত ফি আলাদা। দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার প্রয়োজন হলে তুলনামূলক বেশি ফি দিয়ে দ্রুত ডেলিভারির বিকল্প নেওয়া যায়। তবে কোন সেবা আপনার আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নিয়মিত ডেলিভারি সাধারণত তাঁদের জন্য উপযোগী, যাঁদের পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব বেশি তাড়াহুড়া নেই। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি তুলনামূলক কম। সরকারি ফি তালিকায় বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়মিত ডেলিভারির সম্ভাব্য সময় হিসেবে ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এটি একটি নির্ধারিত সময়সীমা; আবেদন যাচাই বা অন্য কোনো কারণে পাসপোর্ট পেতে বেশি সময়ও লাগতে পারে।

যাঁদের তুলনামূলক দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন, তাঁরা এক্সপ্রেস ডেলিভারির বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। সরকারি ফি তালিকায় এ সেবার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর সাত কর্মদিবস বা ১০ দিনের সময় উল্লেখ রয়েছে। নিয়মিত ডেলিভারির তুলনায় এ সেবার ফি বেশি হওয়ায় আবেদন করার আগে খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি দ্রুততম সেবার বিকল্প হিসেবে পরিচিত। সরকারি ফি তালিকায় এ ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর দুই কর্মদিবসের সময় উল্লেখ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে এই সেবা বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সুপার এক্সপ্রেস সেবা সব ধরনের আবেদন বা পরিস্থিতিতে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট অফিসের নিয়ম ও সেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী ফি-র পার্থক্য পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা ও মেয়াদের ওপরও নির্ভর করে। ৪৮ পাতার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডেলিভারি ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা, এক্সপ্রেস ডেলিভারি ফি ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ফি ৮ হাজার ৬২৫ টাকা। তবে আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি ফি তালিকার সঙ্গে অঙ্কগুলো মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও তিন ধরনের সেবার ফি আলাদা। একইভাবে ৬৪ পাতার পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও নিয়মিত, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির খরচ এক নয়। ফলে শুধু দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার কথা বিবেচনা না করে নিজের জন্য কোন মেয়াদ ও পাতার সংখ্যা প্রয়োজন, সেটিও আগে ঠিক করা ভালো।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ডেলিভারির সময় গণনা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এক বিষয় নয়। আবেদন ফরম পূরণ বা ফি পরিশোধ করলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া নিশ্চিত হয় না। বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান, পরিচয় ও নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন হওয়ার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।

যাঁদের বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে পাসপোর্ট দরকার, তাঁদের শেষ মুহূর্তে আবেদন না করাই ভালো। সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় সময় হাতে রেখে আবেদন করা উচিত। দ্রুত ডেলিভারি বেছে নিলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা যাচাইয়ে জটিলতা দেখা দিলে সময় বাড়তে পারে।

আবেদন করার সময় নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ডেলিভারি সেবা নির্বাচন করতে হবে। শুধু দ্রুত পাওয়ার আশায় বেশি ফি দেওয়া যেমন সব সময় প্রয়োজনীয় নয়, তেমনি জরুরি ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে সময়ের বিষয়টি উপেক্ষা করাও ঠিক হবে না। তাই আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

ই-পাসপোর্টের ফি ও ডেলিভারির নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে আবেদন চূড়ান্ত করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি, সম্ভাব্য সময় এবং সেবার প্রাপ্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে অপ্রত্যাশিত খরচ ও ভুল সেবা নির্বাচনের ঝুঁকি কমবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত