শ্রীমঙ্গলের সময়

সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে বড় ধাক্কা অস্ট্রেলিয়ার

খেলা · 2026-10-27T10:32:53.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। ঘাড়ের চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে একাদশ থেকে ছিটকে গেছেন তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে জশ ইংলিসকে দলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি একাদশে আরও তিনটি পরিবর্তন এনে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সফরকারীরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের আগে বড় ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জয় পেলেও দ্বিতীয় টেস্টে দাপুটে পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্মিথের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। টস জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি একাদশে চারটি পরিবর্তন এনে নির্ণায়ক লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে সফরকারীরা।

স্মিথের ছিটকে পড়ার পেছনে রয়েছে ঘাড়ের চোটজনিত সমস্যা। দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে এই সমস্যায় ভুগেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়েও তাঁর ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ম্যাচের আগে তাঁকে নিয়ে আশাবাদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক টেস্টে খেলা হচ্ছে না অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের। দলের ব্যাটিং অর্ডারে স্মিথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুখে ব্যাটিং করার সামর্থ্যের কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার। তাঁর অনুপস্থিতিতে অন্য ব্যাটারদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ইনিংসের ভিত গড়ে তোলা এবং বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্মিথের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন জশ ইংলিস। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পরিচিত মুখ ইংলিসের সামনে এবার টেস্ট ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ এসেছে। তাঁর অন্তর্ভুক্তি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিভাগে নতুন সমন্বয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ক্যামেরন গ্রিনের প্রত্যাবর্তন দলটির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। পেটের পেশিতে চোটের কারণে আগের ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা গ্রিন এবার ব্যাটার হিসেবে দলে ফিরেছেন। তাঁর কাছ থেকে মিডল অর্ডারে কার্যকর ইনিংস প্রত্যাশা করবে অস্ট্রেলিয়া। তবে এই ম্যাচে তাঁর বোলিং করার কথা নেই। ফলে ব্যাটিংয়ে অবদান রাখার পাশাপাশি দলের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও নির্বাচকদের বিবেচনায় রাখতে হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার একাদশে বাকি পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছেন কুপার কনোলি ও নাথান লায়ন। বিউ ওয়েবস্টারের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন কনোলি। অন্যদিকে স্কট বোল্যান্ডের জায়গায় ফিরেছেন অভিজ্ঞ অফস্পিনার লায়ন। নিউল্যান্ডসের উইকেট এবং ম্যাচের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লায়নের অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। কনোলির উপস্থিতিও দলের সমন্বয়ে নতুন বিকল্প তৈরি করেছে। চার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। নির্ণায়ক ম্যাচে এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদিকে সিরিজের প্রথম টেস্টে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে চাপে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ডারবানে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে জয় পেয়েছিল সফরকারীরা। এরপর গকেবেরহায় দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৩১ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায়। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। এমন পারফরম্যান্সের পর শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানো অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় পরীক্ষা। স্মিথের অনুপস্থিতি সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়েছে। ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা এবং বোলারদের কার্যকারিতার ওপরই নির্ভর করবে সফরকারীদের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও এই ম্যাচটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত জয়ের পর স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস এখন উঁচুতে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে শেষ ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে হলে স্বাগতিকদের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। নিউল্যান্ডসের পরিবেশ এবং উইকেটের আচরণ ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অস্ট্রেলিয়া টস জিতে বোলিং বেছে নেওয়ায় শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরির সুযোগ পাবে সফরকারীরা। তবে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ সেই চাপ সামলে কতটা বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে, তা ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ।

সব মিলিয়ে নিউল্যান্ডসের এই টেস্ট দুই দলের জন্যই মর্যাদা ও সিরিজ জয়ের লড়াই। একদিকে ঘাড়ের সমস্যায় স্টিভ স্মিথের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে চার পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে সফরকারীদের দলীয় সমন্বয়। প্রথম টেস্টে জয় এবং দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া এবার সিরিজ নিজেদের করে নিতে চাইবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য দ্বিতীয় ম্যাচের সাফল্য ধরে রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করা। টস জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের স্থায়িত্ব, বোলিংয়ের কার্যকারিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে নিউল্যান্ডসের এই নির্ণায়ক টেস্টের ভাগ্য।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত