শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মব নয়, আদালতের মুখোমুখি হবেন
রাজনীতি · 2026-10-27T13:58:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে মবের শিকার হতে দেওয়া হবে না; বরং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকেও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বিতর্কিত বক্তব্য, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলো আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনার মধ্যে উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য আলাদা করে চেষ্টা করতে হবে না। তবে দেশে ফেরার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার, তা-ই হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে বারবার আলোচনা না করারও ইঙ্গিত দেন উপদেষ্টা।
তিনি অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এরশাদ ক্ষমতা হারানোর পরও দেশে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং পরে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও প্রতিশোধের পরিবর্তে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এদিকে আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় তথ্য উপদেষ্টাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইজিপি তাঁর আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকলে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ফলে আইজিপির বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর পরবর্তী ব্যাখ্যাও বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
আইজিপির বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সে প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে তিনি কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি উপদেষ্টা।
সংবাদ সম্মেলনে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, সংশ্লিষ্টদের এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাঁর মতে, একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তাঁর মরদেহের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, যারা এমন আচরণ করেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত সমাজে নিন্দিত হন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পক্ষে জনসমর্থন পান না। মৃত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাঁর মরদেহের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা মানবিক দায়িত্ব বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
একই ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ প্রতিরোধের বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করে। কিছু ঘটনা আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, যা সাধারণ মানুষের সামনে আসে না। সরকার আইন ভঙ্গের ঘটনায় ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, আইজিপির বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক এবং মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা—তিনটি বিষয়েই তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতি হতে না দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা।